ফার্স্ট পোলিং, রিজার্ভ থেকে রণাঙ্গন
প্রত্যাশা মতই ভোটের চিঠি টা হাতে পেয়েই বিরক্তিতে ভুরু দুটো কুঁচকে গেছিলো। জানতাম আসবেই, এ এমন প্রেম! কিন্তু পূর্ব অভিজ্ঞতায় বুঝেছিলাম কাজে চটপটে না হলে এ যাত্রায় অশেষ দুঃখ। আর নিউজে ভয়াল ভয়ংকর খবর পেয়ে মনটা দমে গেছিলো। ভেঙে পড়েছিলাম থার্ড লেটার পেয়ে। একেবারে থার্ডক্লাশ যারে কয়। শ্লা একেবারে রিজার্ভ! মাঝমাঠের প্লেয়ার কে রিজার্ভ? মনের দুঃখে কাকে গালি দেব বুঝতে না পেরে মেন্টাল প্রিপারেশান নিলাম। রিজার্ভে থাকবই না আর যদি থাকি বাড়ি চলে আসব। রক্তগরম তাই ভাবনা চিন্তা গুলোও ঘটিগরম। তখনও জানিনা কপালে কি নাচছে। ভোটকেন্দ্র মিনাখাঁ। বামনপুকুর ডিসি আরসি তে যখন পৌঁছলাম তখন সমুদ্রের ঢেউ আসতে শুরু করেছে, স্যানিটাইজারের গন্ধে আর ঘনঘন মাইকের ঘোষণাতে পেটের ভিতর কেমন গুড়গুড় করে উঠল। আসার সময় বউ এর মুখটা দেখেছিলাম কান্নায় ছলছল। বুঝলাম না শেষ বিদায় দিচ্ছে নাকি আমাকে মিস করবে তাই...। ভীড়ের মধ্যে দেখি আমারই কলিগ ভাই... আসিফ। হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
- আরে দাদা! কি ব্যাপার
- ইয়ে কিছু না। রিজার্ভ।
- আরে ক্যা বাত। আজ সারাদিন দুই ভাই তে ঘুরে বেরাব। চল দাদা।
- ইয়ে আমি ডিউটি নেব। অনেক কষ্টে ঢোঁক গিলে বললাম। চশমার ফাঁক দিয়ে আসিফ বেচারার চোখ গোল গোল হয়ে গেল। করোনা বিধি ভুলে আমার গলায় হাত দিয়ে টেম্পারেচার মেপে বলে - কই না তো। ঠিকই আছে। অরিন্দম দা বাত ক্যা হ্যায়?
- আমি রিজার্ভ থাকব না ভাই। সারাদিন ডিসি আরসিতে থাকতে পারব না। প্রায় কেঁদে ফেলার উপক্রম।
- এই না না! কেস কি দাদা? যেচে বাঁশ নিচ্ছ কেন? রিজার্ভে আছ ভাল আছ। আমার সাথে থাকো।
- আরে না ভাই থাকতে পারুম না। ডিউটি আমার চাই।
- ধুত্তোর। থাকো আমি গা ঢাকা দিতে চললাম। নিমেষে পাতলা চেহারাটা মাস্কের ভীড়ে সেঁধিয়ে যায়। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি। সব কাজ সবাইকে দিয়ে হয় না। আমার এই বাড়ন্ত চেহারা ভড়ন্ত বেলায় কোথায় লুকাবো। অগত্যা ভারী ব্যাগটা কে কাঁধে নিয়ে হাঁটা মারলাম রেজিষ্ট্রেশন কাম অ্যাটেন্ডেন্স কাউন্টারের দিকে। যেটা দেখলাম মেজাজ একদম খিঁচড়ে গেল। একিরে ভাই? সাতসকালে এত ভীড় কেন? একটু এগিয়ে বুঝলাম সব ডিউটি নেবে বলে মারামারি করছে। আমি ধপ করে ব্যাগ ফেলে বসে পড়লাম। সারাদিন রিজার্ভেই থাকতে হবে। কিন্তু ভগবান সদয়। মাইকে দেখি নাম অ্যানাউন্স করছে। আমার নাম।
এই সুযোগ হাতছাড়া করি কেমন করে? দুই লাফে সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। ততক্ষণে দুজনের পা মাড়ানো হয়ে গেছে। স্যার কি ম্যাডাম খেয়াল করিনি। পিছনে তুমুল চেঁচামেচি হচ্ছে। আচমকাই প্রশ্ন টা ধেয়ে এল- ডিউটি করবেন? নিতে চান?
এ আবার কেউ শুধায়? কোন পাগলেও? বললাম ডিউটি চাই নাহলে থাকব না। লোকটা রেজিস্ট্রার থেকে একটু মুখটা তুলে ভাল করে দেখে নিলো। পাগলের ভাব খুঁজে না পেয়ে ধপাস ধাঁই করে স্ট্যাম্প মেরে দিয়ে বলল ট্যাগ মেরে দিলুম। থার্ড পোলিং ওই ওখানে। দেখলাম বেশ গোলগাল চেহারার। আমারই মতন। খুব পছন্দ হল। মানে মনে ধরল। জিগালাম দাদা আপনার এই নম্বর বুথ? লোকটা যেন ডুবে যাবার আগে খড়ের আঁটি খুঁজে পেল!
-আরে হ্যাঁ হ্যাঁ ভাইপো! তা তুমিই ফাপ্পোলিং তো?
- ফার্স্ট পোলিং
- ওই হলো। তা কাজ জানো।
- বিলক্ষণ
- ওইব্বাস। এসো এসো তাড়াতাড়ি।
দেখলাম মেটেরিয়াল নেবার ঘরে মেঝেতে কাগজ বিছিয়ে দুই সুদর্শন যুবক মেলাচ্ছে হিসেব। জানলাম প্রিসাইডিং শাহিন দা আর সেকেন্ড পোলিং বুদ্ধ। মানে গৌতম বুদ্ধ আর কি! মুখে একটা স্মিত হাসি লেগেই আছে। পরের ঘটনা খুবই সামান্য। আমার একটা অদৃশ্য গুণ আছে। যেখানে যাই নিমেষে মজিয়ে দিই। পোলিং পার্টির সাথে বেশ ভালই খাপ খেয়ে গেলাম। অতঃপর পুলিশ ট্যাগ করতে গিয়ে বিষম খেলাম। কয়েকজন এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। কেউ বা আবার মোবাইলে মগ্ন। একজন দেখলাম একটু তফাতে খৈনি হাতে আমাকে নিরীক্ষণ করে চলেছেন। মধু স্বরে ডাকলাম - দাদা, ও দাদা, যাবেন বুথে? পুলিশ টি নাক দিয়ে কেমন একটা অদ্ভুত শব্দ করে বলল সারের বুথ কোথায়? ঢোঁক গিলে নিলাম। বুথের নাম শুনে যদি বিগড়ে যায়! বললাম দক্ষিণ কুমার জোল প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঠিক তখনই বেয়াড়া মাইক পাশ দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল- অমুক প্রিসাইডিং কে রিকুয়েষ্ট করা হচ্ছে এত নম্বর কাউন্টারে.....
- আজ্ঞে কিসের ঝোল? বেচারা পুলিশ ও খাবি খেল
- আজ্ঞে ঝোল নয় জোল, জোল। কুমার জোল।
- অ। আচ্ছা তাই বলুন। চলুন।
হাতে,চাঁদ পেলাম। বুক ফুলিয়ে পোলিং পার্টির সাথে মিট করতে গিয়ে দেখি সেকেন্ড পোলিং বেচারা কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ওদিকে সেক্টরের সাথে প্রিসাইডিং এর কথা কাটাকাটি চলছে। মাথা গলিয়ে ব্যাপারটা বুঝলাম ড্রাইভার সুইচ অফ করে মাঠের কোন কোণায় ঘুম দিচ্ছে, মাইকে কেঁদে কেটেও ব্যাটার টিকির নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। ত্রিশ মিনিট পর চোখের নীচ ফুলিয়ে ড্রাইভার বাবাজি যখন এলেন তখন বিকেল হবার মুখে। প্রিসাইডিং শাহিন দা রোজা রাখা মানুষ। অনেক কষ্টে রাগ দমন করে গাড়িতে উঠে গেলেন। খালি থার্ড পোলিং অমর দাই কিসের পো একটা যেন বললেন ঠিক কানে এল না। বুদ্ধ ভাইকে এক বগলে আরেক বগলে ব্যাগ সহ সমস্ত মেটেরিয়াল নিয়ে উঠে পড়লাম। গাড়ি ছুটল বাসন্তী হাইওয়ে দিয়ে গন্তব্যের দিকে। মিনিট চল্লিশ পরে অনেক পাকদণ্ডী পেরিয়ে একটি দোতালা প্রাইমারি স্কুলের সামনে যখন গাড়ি খানি দাঁড়ালো তখন আলো অনেকটাই কমে এসেছে। স্কুলবাড়ির সামনে অনেকটা জায়গা জুড়ে বাঁশ বাগান। মন টা ছ্যাঁত করে উঠল। এই বাঁশের নিয়তি কি কে জানে? ভাল করে নজর করলাম সেকেন্ড পোলিং ছোকরাটাও ভয়ে ভয়ে বাঁশবাগানের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হল ভয় পেয়েছে। একমাত্র অমরদাই ভয় পায়নি। শুনেছিলাম উনি নাকি তন্ত্র সাধনাও করেন। সব মালপত্র একে একে গাড়ি থেকেই নামাতেই চক্ষু কপালে। প্রাইমারি স্কুল খানি আগলে রেখেছে জনা বিশেক ছ ফুটি বাহিনী। দেখতে যতটা ভয়ংকর ততটাই নির্মম ভাবে কাঁধে ঝুলছে অস্ত্র গুলো। কিন্তু ওই সময় কেন জানি না মনে ভরসা পেলাম ওঁদের দেখে। একটা দেশাত্মবোধক গানও মাথায় এসে গেল। কিন্তু গলায় আসার আগেই পেটে গুড়্গুড়ি মেরে থেমে গেল। বুঝলাম পেটে খাবার নেই। তাড়াতাড়ি বুথে জিনিসপত্র খালাস করে গামছা পড়ে কলতলায় দাঁড়িয়ে গেলাম। দুই পাশে দুই সিক্স প্যাক তখন গোটা বালতি মাথায় তুলে ঢালছে। মাঝে আমি ভুঁড়ি নিয়ে সঙ্কোচে দাঁড়িয়ে। আমার অবস্থা দেখে একজন মৃদু হেসে বালতি এগিয়ে দিতেই হাপুস হুপুস শব্দে স্নান পর্ব সমাধা করে নিলাম। তখন অন্ধকার আরো জমাট বাঁধছে। চোখ গেল সেই জমাট বাঁধা বাঁশ বাগান টার দিকে। একটু ভয় ভয় লাগছিল। সদ্য মা বাবা গত হয়েছেন। এই সময় অপদেবতার দৃষ্টি প্রখর হয় বলে শুনেছি। তবে এত CRPF এর মাঝে কিছু সুবিধা করতে পারবে বলে মনে হয় না। তাড়াতাড়ি স্নান সেরে ঘরে গিয়ে জামাকাপড় সেরে ব্যাগ থেকে টিফিন বের করার সময় ব্যাপারটা নজরে পড়ল। সেকেন্ড পোলিং ছোকরা এতগুলো ফর্মের মাঝখানে ফ্যাকাশে মুখ করে বসে আছে। দুই বার ডাকলাম, সাড়া দিল না। তারপরেই হাঁউমাঁউ কান্না।
- দাদা আমি এখানে থাকবো না
- কেন কি হয়েছে ভাই? ক্ষিদে তখন মাথায়
- একজন এজেন্ট বলল সামনের বাঁশ বাগানে দুটো বুড়ি গলায় দড়ি দিয়েছিলো। তারা আজো স্কুল বাড়িটায় ঘুরে বেড়ায়।
- আরে দূর কি সব বলছ।
- হ্যাঁ দাদা। ততক্ষণে দুইচার জন জওয়ান দরজার কাছে ব্যাপারটা দাঁড়িয়ে শুনছিলো। একজন এগিয়ে এসে বলল - আরে সাহাব কুছ নেহি হ্যায়। হামলোগ হ্যায় না। ডরনে কি কোই বাত নেহি। ওদের কথা শুনেই হোক আর ক্ষিদেতেই হোক ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়ে গেল। আমরা তিনজনে মিলে কিছু খেয়ে দেয়ে পাহাড়প্রমাণ কাগজ ফর্মের স্তূপে ডুবে গেলাম। কাজ শেষ করে যখন উঠলাম ঘড়িতে এগারোটা ছুঁই ছুঁই। পাড়াগাঁয়ের রাত মানে মধ্যরাত। দূর থেকে কুকুরের কান্না শুনতে পাচ্ছি। তখনও জানি না কপালে কি নাচছে। রাতে আহারের ব্যবস্থাও ছিলো অসামান্য। ডাল ভাত পটল আলু মাছের ঝোল। আহা। সব ভুলে গোগ্রাসে খেয়ে নিলাম। স্থানীয় এক চাচার দৌলতে খাবার গুলো পেলাম বলে কৃতজ্ঞতার অবধি ছিলোনা তাঁর প্রতি। রাতে শোবার আগে থার্ড পোলিং অমরদা পইপই করে মনে করিয়ে দিলেন মাথার দিকে দরজা গুলো বন্ধ করে দিতে। নতুন জায়গা সহজে ঘুম আসতে চাইছে না। বাইরে ভারীবুটের সাথে কিরকম সর সর, ছলাৎ ছলাৎ, টুপ টাপ আওয়াজ হয়েই চলেছে। সাথে ঝিঁঝিঁর খাম্বাজ রাগিণী। পাগল হয়ে যাবার যোগাড়। কেমন যেন একটা তন্দ্রা এসে গিয়েছিলো। আচমকা তন্দ্রা ভাঙতেই চোখ গেল মাথার কাছে দরজাটা হাট করে খোলা। সারা শরীর হিম হয়ে গেল এই গরমেও। কারণ পোলিং পার্টির কেউ বাইরে বেরোয় নি,সবাই নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে। তাহলে দরজাটা খুললো কি ভাবে? এরপরই যে চিন্তা টা মাথায় এলো সারা শরীর কাঁটা মারলো। দরজা টা খুললো কে? একরাশ ভয় নিয়ে দরজা দিয়ে মুখ টা বাড়িয়ে দিলাম। বড় বড় গাছ গুলো সমস্ত স্কুল বাড়ি ঘিরে ভুতের মত অন্ধকারে স্নান করছে। সদর গেটে তালা। ওহ হ্যাঁ যেটা বলা হয়নি এই স্কুল বাড়িটায় আমাদের বুথ ছাড়াও আরেকটা বুথ হয়েছে। তারাও নিশ্চুপ ঘুম দিচ্ছে। বাহিনী চোখে পড়ল না। তাড়াতাড়ি দরজায় আরো টাইট করে খিলান এঁটে শুয়ে পড়লাম। পাশ দিয়ে অমরদা ফিসফিস করে শুধাল - ভাইপো ব্যাপার টা কি বুঝছ? চমকে গেলাম। ভদ্রলোক যে ভাবে নাক ডাকছিলো এটা হয়ত ওনার নজর এড়িয়ে যাবে ভেবেছিলাম। কিন্তু না উনিও ব্যাপারটা দেখেছেন। কিছু উত্তর দিলাম না। মড়ার মত পড়ে রইলাম। একটু পর উঠে স্নান পায়খানা সেরে নিতে হবে। মকপোল ভোর সাড়ে পাঁচটায় আর ভোট সাতটায় শুরু করতেই হবে। প্রিসাইডিং শাহিন দা ঠান্ডা মাথার মানুষ। এসব তাঁকে বিশেষ বিচলিত করল বলে মনে হল না। বুদ্ধ কে দেখলাম ছোকরা ভয়েতে একেবারে মাথা পর্যন্ত কাপড়ে ঢেকে শুয়ে আছে এই গরমেও। যাই হোক। বিভীষিকা শেষে সকাল হল, এজেন্ট গণ এলেন। মকপোল নির্বিঘ্নে শেষ করে আসল খেলা শুরু করলাম। একেক জন ভোটার আসছেন, মার্কড কপির দাগের খসখসানি শব্দের সাথে ইভিএম এর বাঁশির শব্দ সাথে কালির গন্ধে সারাদিন কেটে গেল। দুপুরবেলা মাঝে আহারের জন্য একটু সময় পেয়েছিলাম। ডিমের ঝোল আর ভাত খেতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো বেঁচে থাক গণতন্ত্র আর এই ভোট উৎসব। শান্তিতে সমস্ত কিছু সমাধা হল বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। আর কোন ভোটার নেই। টার্ণ আউটের মেসেজ পাঠিয়ে ফাইনাল ফিনিশিং এর কাজে নেমে পড়লাম। এবারের কাজ নিখুঁত হওয়া দরকার।নাহলে কূলে এসে তরী ডুববে। সিলিং, গালা সিল করে ফর্মে সব ঢুকিয়ে মিলিয়ে নিচ্ছি। এমন সময় সেক্টর এলেন। সমস্ত কিছু বুঝিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আমি তক্কে তক্কে ছিলাম। উনি বেরিয়ে যেতেই বাহিনীর এক জওয়ান কে পাকড়াও করলাম। রাতের ঘটনাটা বলতেই কি হাসি। গোঁফের ফাঁকে চওড়া হেসে বলে কি না সাহাব কো ডর লাগা। ব্যাপারটা ওঁর কাছ থেকেই উদ্ধার করলাম আমরা আসার আগেই দরজার খিলান টা নতুন লাগানো হয়েছিলো। খুব টাইট তো, তাই আপনা থেকেই উঠে দরজাটা খুলে যাচ্ছিলো। গাড়ি ততক্ষণে এসে গিয়েছে। একজন জওয়ান এসে সাবধান করে দিয়ে গেল - সাহাব তুরন্ত নিকাল জাইয়ে। হালাত গম্ভীর হো সকতে হ্যায়। বুঝলাম ভোট হয়ে যাবার পর ইভিএম ডিসি আরসি তে না যাওয়া পর্যন্ত ওরাও স্বস্তি পাচ্ছেনা। অগত্যা বেরিয়ে গাড়িতে উঠলাম। বাঁশঝাড় পাশেই। একটা ঠান্ডা বাতাস এসে গায়ে লাগছে। কিন্তু মনে একটা ফুরফুরে ভাব। সামনের সিটে বসেছিলাম। সেই জওয়ান টা আমার হাত জড়িয়ে বললেন- সাবজি হিম্মত কভি হারনা নেহি। ডর কে আগে জিত হ্যায়। আমার চোখে তখন জল। কৃতজ্ঞতার। গাড়ি ছুটল সামনের দিকে ডিসি আরসির উদ্দেশ্যে। পিছনে তখনও দাঁড়িয়ে আসমুদ্রহিমাচল রক্ষক। অন্ধকারে চোখদুটো কিরকম উজ্বল লাগলো। চোখে জল দেখলাম কি? ওদের মায়া হয়? প্রশ্ন গুলো পাক খেয়ে পথের ধুলোতেই মিশে যেতে লাগলো। কিছু প্রশ্নের হয়তো উত্তর হয় না।
No comments:
Post a Comment