Tuesday, 10 September 2019

লেখনী সংবাদ

ছোটগল্প ✒লেখনী সংবাদ
© সংরক্ষিত
দোকান থেকে সদ্য কেনা পেন টায় লিখতে বসেছি নতুন গল্প.....বউ গেছে বাপের বাড়ি পুজোর কেনাকাটা করতে! অতএব বাড়ি এখন ঠান্ডা! ঘড়িতে দেখে নিলাম সাতটা বাজতে চলেছে! বাইরে বীভৎস গুমোট! হাঁসফাঁস করতে করতে ফ্যানের স্পিড বাড়িয়ে দিলাম......মনে হল মুখের উপর চুলের মতন কি একটা উড়ে এসে পড়ল! ভাবলাম হয়ত মনের ভুল.....লিখতে বসে বেবাক গন্ডগোল হয়ে গেল! প্লটই মাথায় আসছেনা! অগত্যা শুরু করলাম এইভাবে
" বর্ষার রাত......দূর থেকে গির্জার ঘড়িতে রাত ন"টার ঘণ্টাধ্বনির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে! আচমকা রান্নাঘরের দরজাটা দমকা হাওয়ায় খুলে গেল! টের পেলাম আমি ঘরে একা নই...!"
এই পর্যন্ত লিখে একটু দম নিলাম! পাঠকরা এই গল্প দারুণ খাবে....এইসব সাতপাঁচ ভাবছি আচমকা চোখ গেল ঘড়ির দিকে! কাঁটা টা ন টার ঘরে স্থির হয়ে আছে! বাতাসের বেগ টা একটু বাড়ল মনে হল! বাগানের দিক থেকে শনশন আওয়াজ শোনা গেল! আচমকাই রান্নাঘরের দরজার একটা পাল্লা সশব্দে খুলে গেল! আমার শিরদাঁড়ায় তখন কারেন্ট বইছে! মনে পড়ে গেল দোকানীর ভয়ার্ত চোখ পেন টা বিক্রির সময়ে.....
মনে হল খাটের ওই সাইডে কে যেন বসে....! ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি একটা মহিলা রাত পোশাকে পিছন দিকে মুখ করে বসে! তার চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছে! কাঁপতে কাঁপতে হাতে ধরা পেনটার দিকে তাকালাম! নিব বেয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে পাতায়.....মনে হল মহিলাটি আস্তে আস্তে ঘুরে বসছে আমার দিকে....কুকুর কাঁদছে কোথাও তীব্রভাবে.........!

কপিরাইট সংরক্ষিত © অরিন্দম নন্দী

নিঃসঙ্গতা

#নিঃসঙ্গতা
লেখনী কপিরাইট অরিন্দম নন্দী

© নতুন অফিসের চাকরিতে জয়েন করার একসপ্তাহের মাথাতেই নতুন ফ্ল্যাটের চাবিটা হাতে পেল শিবানি! একটা শিরশিরানি  আনন্দের সাথে অন্যরকম এক্সাইটমেন্ট ফিল হয়েছিল মেয়েটার! প্রথম থেকেই বাড়ির লোকজনে আপত্তি জানিয়েছিল এতদূরে চাকরি করা নিয়ে....এরকম একা একা একটা ফ্ল্যাটে থাকবে....তার উপর সুন্দরী... একটা কিছু হয়ে গেলে! দিনকাল তো ভাল নয়! কিন্তু শিবানি সেগুলোকে পাত্তাই দেয়নি! সে জানে সে সুন্দরী! কলেজে ক্লাস করার সময় ক্লাসরুমেই চল্লিশ জোড়া চোখের কামুক আহ্বান তাকে সইতে হয়েছে! বলাবাহুল্য তারা কেউ পাত্তা পায়নি! আসলে মেয়েটি একটু অন্য টাইপের! প্রেমের ঘ্যানঘ্যানানি তার মোটে সহ্য হয় না! কলেজ পাস করে আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশুনা করে যখন সে এই চাকরিটা পেল তখন একটা জিনিস সে উপলব্ধি করতে পেরেছিল দুনিয়াতে টাকা জিনিস টার গুরুত্ব অসীম! বাবার বুকের অসুখের এবার একটা হিল্লে হবে! অনেক টাকার খরচ.... অবশ্য তার স্যালারির পরিমানটা ও কম অঙ্কের নয়! মেয়েটার চোখের সামনে মূহুর্তে ভেসে উঠল রঙিন ভবিষ্যৎ! আচমকাই চাবি ঘুরানোর খুৎ করে একটা শব্দের সাথে চিন্তাজাল ছিন্ন হয়ে যায় শিবানির! দেখে কেয়ারটেকার ছেলেটা আপ্রাণ চেষ্টা করছে চাবিটা ঘুরানোর....কিন্তু ঘুরছেনা! কিছুতে যেন আটকে রয়েছে চাবিটা! বাচ্চা ছেলে! সারা শরীর ঘেমে নেয়ে একসা! কেমন যেন মায়া হল শিবানির! ছেলেটিকে বলে
- সরে দাঁড়াও! আমি একটু দেখি!
- দিদি....আপনি পারবেন? ছেলেটির চোখেমুখে বিস্ময়!
- দেখিনা.....বলে চাবিটা নিয়ে নিল হাত থেকে! ভাল করে লক্ষ্য করল চাবিটার অগ্রভাগ ঈষৎ বেঁকে গিয়েছে! ওই জন্যেই হয়তো ভিতরে ঢুকছে না! ছেলেটাকে একটা হাতুড়ি আনতে দিয়ে শিবানি লম্বা প্যাসেজের শেষ প্রান্তে বিশাল জানলার কাঁচের পাল্লাটার পাশে এসে দাঁড়াল! সন্ধে হব হব করছে! দূরে কোলিয়ারির আলোগুলো একে জ্বলে উঠছে! ফ্ল্যাটের ভিতরের অংশে একবার ঝটিতি চোখ বুলিয়ে নিল সে! বড় অদ্ভুত এই ফ্ল্যাট টা! চারতলা এই ফ্ল্যাটের প্রত্যেক ফ্লোরে দশটা করে ফ্ল্যাট মুখোমুখি সাজানো! মোট চল্লিশ টা ফ্ল্যাটের এই অ্যাপার্টমেন্টে তারই প্রথম পায়ের ধুলো পড়ল! বাকিরা ফ্ল্যাট বুক করলেও এখনো জিনিসপত্র সমেত ওঠেনি! প্রত্যেক ফ্লোরের কমন গ্রাউন্ডে একটাই লাইট! কিরকম একটা আলো আঁধারির খেলা চলছে! ছেলেটা এখনো আসছেনা! একটা হাতুড়ি আনতে কত সময় লাগে? আরো একবার ভালো করে তার দরজার সামনে এসে লকের ফুটো পরীক্ষা করতে লেগে গেল! লক টা নতুন! অল্প আলোতেও ঝকমক করছে! কোথা থেকে যেন একটা ভ্যাপসা গন্ধ ভেসে আসছে! উৎস ঠিক ঠাহর  করতে পারল না অন্ধকারে! কানে শুনতে পেল কে যেন সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসছে! হয়তো ওই ছেলেটাই....আচমকাই শিবানি শুনতে পেল সামনের দরজার ল্যাচ কি হালকা মোচড়ে ঘুরে গেল! দরজাটা নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করে ক্যাঁ..আ...চ শব্দে আপনা থেকেই খুলে গেল! তারপরেই সে যেটা ফিল করল সেটা আর বাকি পাঁচটা মেয়ে ওখানে কি রি অ্যাক্ট করতে জানিনা! শিবানী ফিল করল মাথার উপর দিয়ে সামনের অন্ধকার ঘরটা থেকে একটা ঝুলকালি মার্কা ছায়া বেরিয়ে বাতাসে মিশে গেল! সাথে একটা বোঁটকা গন্ধ ও বেরিয়ে গেল যেন! শিবানীর সর্বাঙ্গে যেন ঘামের স্রোত বইতে লাগল! সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে কেয়ারটেকার ছেলেটা ও কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে  আছে তার দিকে! শিবানী আস্তে আস্তে তাকে বলে
- লাগেজ গুলো ঢুকিয়ে দিও ঘরে! খুব ক্লান্ত লাগছে!
কথা ক'টা বলেই ঢুকে গেল ঘরে! কেমন বমি বমি পাচ্ছে তার!

© ফ্ল্যাটের ভিতর ঢুকেই শিবানী টের পেল কতদিনের ভ্যাঁপসা গন্ধ
তাকে যেন চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল!ব্যালকনির সাইডে একটা ছেঁড়া পর্দা
কবেকার পতপত করে উড়ে জানান দিচ্ছে কতকাল এখানে কোন আগন্তুকের পায়ের ধুলো পড়েনি।নাহ এবার কোমর বেঁধে তাকে নেমে পড়তে হবে ঘরের জঞ্জাল সাফ করার জন্য। অফিসের দয়ায় এই ফ্ল্যাট খানি পাওয়া। এত স্বর্গ সুখ আশা করাটাও বোকামি, কারেন্টের সুইচবোর্ড খানি অন্ধকারের মধ্যে চেষ্টা করল হাতে পাবার, কিন্তু কিছুই ঠেকল না!ধুলোয় ভরা দেওয়াল গুলো কেমন যেন অস্বস্তির শিহরণ জাগিয়ে গেল তার মনে! কিরে বাবা! সুইচবোর্ড নেই নাকি ঘরে? হতেই পারে না! আবারো দেওয়াল হাতড়ে হাতড়ে ব্যালকনির ছেঁড়া পর্দাটার কাছে চলে আসে সে! ব্যালকনির লাগোয়া একটু বাড়ানো অংশ! কবেকার শুকানো ফুল টবের উপর নেতিয়ে পড়েছে! সন্ধে সবে হয়েছে। অনেক নীচে ছোট্ট হয়ে যাওয়া শুঁড়ি রাস্তায় একটা দুটো পিপড়ের মত মানুষের মাথা দেখা যাচ্ছে! দেখে একটু হাঁপ ছেড়ে বাঁচল শিবানী! যাক এখানেও মানুষ আছে তাহলে! খুব খিদে লেগেছে টের পাচ্ছে এখন! সেই কোন সকালে বেরিয়েছে! অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে ব্যাগ টা খোঁজার চেষ্টা করতে গিয়েই একটা হিম শিহরণ মেরদন্ড বরাবর নীচের দিকে নেমে গেল! মনে পড়ল ঢোকার আগে ছেলেটাকে বলেছিল ব্যাগটা ঢোকানোর কথা ......................কিন্তু ঢোকার পর তো খেয়াল করেনি
দরজাটা ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল কিনা! ব্যাগ টা নিয়ে ছেলেটাই বা কোথায় গেল? আন্দাজে কয়েক পা পিছিয়ে যেখান দিয়ে ঢুকেছিল সেই জায়গায় ফিরে এল! তার বুকের অস্বাভাবিক ওঠানামার শব্দ সে নিজেই শুনতে পাচ্ছে এখন! তার সাথেই অস্বস্তিকর ভ্যাঁপসা সোঁদা গন্ধটা আবার উঠে আসছে কোথা থেকে যেন! গলা ফাটিয়ে ডাকতে লাগল ছেলেটিকে। কিন্তু তার গলা তার কাছেই ফিরে আসে ব্যর্থ পরিহাসে! উন্মাদিনীর মত দেওয়াল হাতড়াতে লাগল। অন্তত একটা সুইচবোর্ড যেন হাতে পায়, কিছু নেই। অন্ধকার টা যেন ক্রমশ চেপে বসছে! দেওয়ালে হাতড়াতে গিয়ে টের পেল একটা নরম মাংসল আঙ্গুল জাতীয় কিছু হাতে ঠেকছে। হাড়হিম হয়ে যায় শিবানীর। কারণ যে জায়গা দিয়ে সে ঢুকেছে সেখানে দরজার বদলে নিরেট দেওয়ালের উপরেই সে ওটাকে ধরেছে। কার একটা হাত........অন্ধকারে সেটাকে পরম বিশ্বস্ত মনে হয় শিবানীর। কানের কাছে একটা ফিসফিসে আওয়াজ ভেসে আসে
- আমার এতদিনের নিঃসঙ্গতা কাটল। এবার থেকে তুমি আর আমি.........................................!!
একটা তীব্র আর্তনাদে অন্ধকার ফ্ল্যাটবাড়িটার কোণা কোণা গমগম করে উঠল!
তারপর সব শান্ত! ব্যালকনিটার ছেঁড়া পর্দাটা তখনো উড়ে যাচ্ছে উদাসী হাওয়ায়।

© অনেকদূরে বসে থাকা লতিকার মুখে আজ হাসি ফুটেছে! এবার তার বোনের বিয়েটা দিতে পারবে! হাতে ধরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার মধ্যবিত্ত পরিবারে খুশির পয়গাম নিয়ে ফ্যানের হাওয়ায় পতপত করে উড়ছে

নিঝুম ফ্ল্যাটবাড়িটার নীচে বসে থাকা কেয়ারটেকার ছেলেটার মুখেও হাসি ফুটছে ক্রুরতার
সঙ্গে.....আজ রাতেও শিকার আসছে! নিঃসঙ্গতা ভাঙতে! এই নিয়ে তিন নম্বর..........
রাস্তার মোড়ে একটা কুকুরের করুণ অশুভ কান্নার সাথেই ছেলেটি রেণু রেণু হয়ে মিলিয়ে গেল জংলা ঝোপে! ফ্ল্যাটবাড়িটার দরজা জানালাগুলি তখন আপনা থেকেই ঢেকে যাচ্ছে নিরেট সিমেন্টের আস্তরণে.....!!!!

সমাপ্ত
© অরিন্দম
স্বত্ব সংরক্ষিত

Monday, 9 September 2019

উর্ধক্রম অধঃক্রম


Image may contain: one or more people, people sitting, people sleeping and closeup

উর্ধক্রম অধঃক্রম
©অরিন্দম নন্দী
বউটা তারস্বরে চেঁচিয়ে যাচ্ছে - হতচ্ছাড়ি আমি কালই স্কুলে প্রিন্সিপাল কে বলে ছাড়িয়ে আনব! দরকার নেই তোর পড়াশোনার! একটা অ্যাসেন্ডিং ডিসেন্ডিং অর্ডারে নাম্বার সাজাতে পারেনা!
আমি মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম! একটু আড়চোখে তাকালাম মেয়ের দিকে! অবস্থা ভালো নয়! মেয়ের মনে জমছে কালো মেঘ! এক্ষুনি ভাসিয়ে বৃষ্টি নামবে! আমার কেমন মায়া হল! বললাম- মা তুই তো এমন ছিলি না! তুই ভাল পড়া বুঝিস! তাড়াতাড়ি কাজ টা সেরে ফেল না!
- বাউবাউ! মেয়ের ক্ষীণ গলা! সচকিত হয়ে উঠলাম! কি হয়েছে মা?
- বাউবাউ অ্যাসেন্ডিং ডিসেন্ডিং মানে কি?
ছোট থেকে বড় আর বড় থেকে ছোট বলতে গিয়ে হোঁচট খেলাম! মানে খাওয়াটাই ধার্য ছিলো! মেয়ের প্রশ্নে ট্যারা শিবনেত্তর হয়ে বসে রইলাম! কোনটা সঠিক? মোবাইল গুঁতিয়ে সঠিক তথ্য জেনে মেয়েকে বলতে যাচ্ছি বউ রণরঙ্গিণী মূর্তি নিয়ে ঘরে ঢুকল! হাতে খোলা ডাল ঘুটানোর কাঁটা! তা থেকে ফোঁটা ফোঁটা ডাল মাটিতে পড়ছে! শিয়রে সংক্রান্তি! ওই অস্ত্র আজ আমার না হয় মেয়ের পিঠে পড়বেই! বউ নাদ গর্জনে বলছে শুনলাম- এই এক বাপ হয়েছে! মেয়েটাকে একটু দেখাতে পারে না! খালি মোবাইল আর মোবাইল! এই কি করেছিস দেখি!
মেয়ে ততক্ষণে আমার পিছনে! আমি একটু মিনমিনে গলায় বলার চেষ্টা করলাম- ইয়ে গিন্নী আমি দেখছি তো! তুমি ওই কাঁটা ইয়ে মানে ডাল নিয়ে যাও! আমি পড়িয়ে দিচ্ছি!
- দুচ্ছাই! বউ দুপদাপ করে রান্নাঘরের দিকে হাঁটা মারল! মেয়েটাও আমার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে আদুরে ছোট্ট দুটো হাতে গলা জড়িয়ে বলে- বাউবাউ অ্যাসেন্ডিং কথাটার মানে তুমি জান না তাই না? খানিক লজ্জিত হয়ে বললাম না রে মা ঠিক তা না! জানতাম কিন্তু গুলিয়ে ফেলেছিলাম! আসলে আমি ছোটবেলায় উর্ধক্রম অধঃক্রম শিখেছিলাম তো!
- বাউবাউ ঠাম্মি আমাকে এটাই শিখিয়েছিল! এটা তো আমি জানি!
- সেকি! অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি! তাহলে পারলি না কেন? তোর মা তো ক্ষেপে ব্যোম!
- তুমিও তো পারনি! আমি ইংরেজি ভাল বুঝিনা বাউবাউ! আমার বাংলা ভাল লাগে! আর আমার অধঃক্রম লিখতে ভাল লাগেনা! ঠাম্মি বলে জীবন টা উর্ধক্রমের মত! সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠো! এক দুই তিন চার......একশো! তুমি আমাকে বাংলা শেখাবে?
মেয়েকে বুকে চেপে ধরলাম! এই একরত্তি মেয়ের সমস্যা সমাধান করতে আমি এগিয়ে আসবই! বাপকেই এগিয়ে আসতে হবে! আমার মায়ের কাছে খেলাচ্ছলে গল্পচ্ছলে নিভু নিভু হ্যারিকেনের আলোয় যা শিখেছিলাম তা জীবনের শিক্ষা! সেখানে অ্যাসেন্ডিং ডিসেন্ডিং এর মত শব্দব্রহ্ম আমাদের মগজধোলাই করে নি! মেয়ের দিকে তাকালাম! কচির চোখের পাতায় চিকচিক করছে জল! কাছে টেনে নিলাম!
- বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর নদেয় এল বান!
- শিবঠাকুরের বিয়ে হবে তিনকন্যে দান! আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়ে কচি গলায় বলে উঠল! অবাক হয়ে গেলাম! বললাম তুই জানিস?
- হ্যাঁ! ঠাম্মি খুব ভালো বলে! আমার ভালো লাগে!
বাপবেটির মধ্যে একটু ভালো লাগার ওমটুকু উর্ধক্রম ধরে ধীরে ধীরে ছাদ ছুঁল! মনকে কলে ফেলতে নেই! দরকার নেই মাছিমারা কেরানী করে! ফড়িং এর ডানায় ভর করেই মেয়ে আমার এগিয়ে চলুক! নাই বা উন্নতি হোক ইংরেজি শব্দব্রহ্ম র! অনেক সময় আছে! অধঃক্রমের পাকে হিসেব মেলানোর অঙ্কে মেয়েকে ফেলতে চাই না! মেয়ে তখন আমার বুকে! বাইরে টিপটুপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে! মেয়ে আস্তে আস্তে বলল
- বাউবাউ শিব ঠাকুরের বিয়ে দেখাতে নিয়ে যাবে?.....
সমাপ্ত
© অরিন্দম নন্দী

ফার্স্ট পোলিং, রিজার্ভ থেকে রণাঙ্গন

ফার্স্ট পোলিং, রিজার্ভ থেকে রণাঙ্গন  প্রত্যাশা মতই ভোটের চিঠি টা হাতে পেয়েই বিরক্তিতে ভুরু দুটো কুঁচকে গেছিলো। জানতাম আসবেই, এ এমন প্রেম! কি...