
উর্ধক্রম অধঃক্রম
©অরিন্দম নন্দী
©অরিন্দম নন্দী
বউটা তারস্বরে চেঁচিয়ে যাচ্ছে - হতচ্ছাড়ি আমি কালই স্কুলে প্রিন্সিপাল কে বলে ছাড়িয়ে আনব! দরকার নেই তোর পড়াশোনার! একটা অ্যাসেন্ডিং ডিসেন্ডিং অর্ডারে নাম্বার সাজাতে পারেনা!
আমি মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম! একটু আড়চোখে তাকালাম মেয়ের দিকে! অবস্থা ভালো নয়! মেয়ের মনে জমছে কালো মেঘ! এক্ষুনি ভাসিয়ে বৃষ্টি নামবে! আমার কেমন মায়া হল! বললাম- মা তুই তো এমন ছিলি না! তুই ভাল পড়া বুঝিস! তাড়াতাড়ি কাজ টা সেরে ফেল না!
- বাউবাউ! মেয়ের ক্ষীণ গলা! সচকিত হয়ে উঠলাম! কি হয়েছে মা?
- বাউবাউ অ্যাসেন্ডিং ডিসেন্ডিং মানে কি?
ছোট থেকে বড় আর বড় থেকে ছোট বলতে গিয়ে হোঁচট খেলাম! মানে খাওয়াটাই ধার্য ছিলো! মেয়ের প্রশ্নে ট্যারা শিবনেত্তর হয়ে বসে রইলাম! কোনটা সঠিক? মোবাইল গুঁতিয়ে সঠিক তথ্য জেনে মেয়েকে বলতে যাচ্ছি বউ রণরঙ্গিণী মূর্তি নিয়ে ঘরে ঢুকল! হাতে খোলা ডাল ঘুটানোর কাঁটা! তা থেকে ফোঁটা ফোঁটা ডাল মাটিতে পড়ছে! শিয়রে সংক্রান্তি! ওই অস্ত্র আজ আমার না হয় মেয়ের পিঠে পড়বেই! বউ নাদ গর্জনে বলছে শুনলাম- এই এক বাপ হয়েছে! মেয়েটাকে একটু দেখাতে পারে না! খালি মোবাইল আর মোবাইল! এই কি করেছিস দেখি!
মেয়ে ততক্ষণে আমার পিছনে! আমি একটু মিনমিনে গলায় বলার চেষ্টা করলাম- ইয়ে গিন্নী আমি দেখছি তো! তুমি ওই কাঁটা ইয়ে মানে ডাল নিয়ে যাও! আমি পড়িয়ে দিচ্ছি!
- দুচ্ছাই! বউ দুপদাপ করে রান্নাঘরের দিকে হাঁটা মারল! মেয়েটাও আমার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে আদুরে ছোট্ট দুটো হাতে গলা জড়িয়ে বলে- বাউবাউ অ্যাসেন্ডিং কথাটার মানে তুমি জান না তাই না? খানিক লজ্জিত হয়ে বললাম না রে মা ঠিক তা না! জানতাম কিন্তু গুলিয়ে ফেলেছিলাম! আসলে আমি ছোটবেলায় উর্ধক্রম অধঃক্রম শিখেছিলাম তো!
- বাউবাউ ঠাম্মি আমাকে এটাই শিখিয়েছিল! এটা তো আমি জানি!
- সেকি! অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি! তাহলে পারলি না কেন? তোর মা তো ক্ষেপে ব্যোম!
- তুমিও তো পারনি! আমি ইংরেজি ভাল বুঝিনা বাউবাউ! আমার বাংলা ভাল লাগে! আর আমার অধঃক্রম লিখতে ভাল লাগেনা! ঠাম্মি বলে জীবন টা উর্ধক্রমের মত! সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠো! এক দুই তিন চার......একশো! তুমি আমাকে বাংলা শেখাবে?
মেয়েকে বুকে চেপে ধরলাম! এই একরত্তি মেয়ের সমস্যা সমাধান করতে আমি এগিয়ে আসবই! বাপকেই এগিয়ে আসতে হবে! আমার মায়ের কাছে খেলাচ্ছলে গল্পচ্ছলে নিভু নিভু হ্যারিকেনের আলোয় যা শিখেছিলাম তা জীবনের শিক্ষা! সেখানে অ্যাসেন্ডিং ডিসেন্ডিং এর মত শব্দব্রহ্ম আমাদের মগজধোলাই করে নি! মেয়ের দিকে তাকালাম! কচির চোখের পাতায় চিকচিক করছে জল! কাছে টেনে নিলাম!
- বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর নদেয় এল বান!
- শিবঠাকুরের বিয়ে হবে তিনকন্যে দান! আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়ে কচি গলায় বলে উঠল! অবাক হয়ে গেলাম! বললাম তুই জানিস?
- হ্যাঁ! ঠাম্মি খুব ভালো বলে! আমার ভালো লাগে!
বাপবেটির মধ্যে একটু ভালো লাগার ওমটুকু উর্ধক্রম ধরে ধীরে ধীরে ছাদ ছুঁল! মনকে কলে ফেলতে নেই! দরকার নেই মাছিমারা কেরানী করে! ফড়িং এর ডানায় ভর করেই মেয়ে আমার এগিয়ে চলুক! নাই বা উন্নতি হোক ইংরেজি শব্দব্রহ্ম র! অনেক সময় আছে! অধঃক্রমের পাকে হিসেব মেলানোর অঙ্কে মেয়েকে ফেলতে চাই না! মেয়ে তখন আমার বুকে! বাইরে টিপটুপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে! মেয়ে আস্তে আস্তে বলল
- বাউবাউ শিব ঠাকুরের বিয়ে দেখাতে নিয়ে যাবে?.....
সমাপ্ত
© অরিন্দম নন্দী
আমি মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম! একটু আড়চোখে তাকালাম মেয়ের দিকে! অবস্থা ভালো নয়! মেয়ের মনে জমছে কালো মেঘ! এক্ষুনি ভাসিয়ে বৃষ্টি নামবে! আমার কেমন মায়া হল! বললাম- মা তুই তো এমন ছিলি না! তুই ভাল পড়া বুঝিস! তাড়াতাড়ি কাজ টা সেরে ফেল না!
- বাউবাউ! মেয়ের ক্ষীণ গলা! সচকিত হয়ে উঠলাম! কি হয়েছে মা?
- বাউবাউ অ্যাসেন্ডিং ডিসেন্ডিং মানে কি?
ছোট থেকে বড় আর বড় থেকে ছোট বলতে গিয়ে হোঁচট খেলাম! মানে খাওয়াটাই ধার্য ছিলো! মেয়ের প্রশ্নে ট্যারা শিবনেত্তর হয়ে বসে রইলাম! কোনটা সঠিক? মোবাইল গুঁতিয়ে সঠিক তথ্য জেনে মেয়েকে বলতে যাচ্ছি বউ রণরঙ্গিণী মূর্তি নিয়ে ঘরে ঢুকল! হাতে খোলা ডাল ঘুটানোর কাঁটা! তা থেকে ফোঁটা ফোঁটা ডাল মাটিতে পড়ছে! শিয়রে সংক্রান্তি! ওই অস্ত্র আজ আমার না হয় মেয়ের পিঠে পড়বেই! বউ নাদ গর্জনে বলছে শুনলাম- এই এক বাপ হয়েছে! মেয়েটাকে একটু দেখাতে পারে না! খালি মোবাইল আর মোবাইল! এই কি করেছিস দেখি!
মেয়ে ততক্ষণে আমার পিছনে! আমি একটু মিনমিনে গলায় বলার চেষ্টা করলাম- ইয়ে গিন্নী আমি দেখছি তো! তুমি ওই কাঁটা ইয়ে মানে ডাল নিয়ে যাও! আমি পড়িয়ে দিচ্ছি!
- দুচ্ছাই! বউ দুপদাপ করে রান্নাঘরের দিকে হাঁটা মারল! মেয়েটাও আমার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে আদুরে ছোট্ট দুটো হাতে গলা জড়িয়ে বলে- বাউবাউ অ্যাসেন্ডিং কথাটার মানে তুমি জান না তাই না? খানিক লজ্জিত হয়ে বললাম না রে মা ঠিক তা না! জানতাম কিন্তু গুলিয়ে ফেলেছিলাম! আসলে আমি ছোটবেলায় উর্ধক্রম অধঃক্রম শিখেছিলাম তো!
- বাউবাউ ঠাম্মি আমাকে এটাই শিখিয়েছিল! এটা তো আমি জানি!
- সেকি! অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি! তাহলে পারলি না কেন? তোর মা তো ক্ষেপে ব্যোম!
- তুমিও তো পারনি! আমি ইংরেজি ভাল বুঝিনা বাউবাউ! আমার বাংলা ভাল লাগে! আর আমার অধঃক্রম লিখতে ভাল লাগেনা! ঠাম্মি বলে জীবন টা উর্ধক্রমের মত! সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠো! এক দুই তিন চার......একশো! তুমি আমাকে বাংলা শেখাবে?
মেয়েকে বুকে চেপে ধরলাম! এই একরত্তি মেয়ের সমস্যা সমাধান করতে আমি এগিয়ে আসবই! বাপকেই এগিয়ে আসতে হবে! আমার মায়ের কাছে খেলাচ্ছলে গল্পচ্ছলে নিভু নিভু হ্যারিকেনের আলোয় যা শিখেছিলাম তা জীবনের শিক্ষা! সেখানে অ্যাসেন্ডিং ডিসেন্ডিং এর মত শব্দব্রহ্ম আমাদের মগজধোলাই করে নি! মেয়ের দিকে তাকালাম! কচির চোখের পাতায় চিকচিক করছে জল! কাছে টেনে নিলাম!
- বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর নদেয় এল বান!
- শিবঠাকুরের বিয়ে হবে তিনকন্যে দান! আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়ে কচি গলায় বলে উঠল! অবাক হয়ে গেলাম! বললাম তুই জানিস?
- হ্যাঁ! ঠাম্মি খুব ভালো বলে! আমার ভালো লাগে!
বাপবেটির মধ্যে একটু ভালো লাগার ওমটুকু উর্ধক্রম ধরে ধীরে ধীরে ছাদ ছুঁল! মনকে কলে ফেলতে নেই! দরকার নেই মাছিমারা কেরানী করে! ফড়িং এর ডানায় ভর করেই মেয়ে আমার এগিয়ে চলুক! নাই বা উন্নতি হোক ইংরেজি শব্দব্রহ্ম র! অনেক সময় আছে! অধঃক্রমের পাকে হিসেব মেলানোর অঙ্কে মেয়েকে ফেলতে চাই না! মেয়ে তখন আমার বুকে! বাইরে টিপটুপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে! মেয়ে আস্তে আস্তে বলল
- বাউবাউ শিব ঠাকুরের বিয়ে দেখাতে নিয়ে যাবে?.....
সমাপ্ত
© অরিন্দম নন্দী
No comments:
Post a Comment