Monday, 1 January 2018

শুভদৃষ্টি





ফোনটা একটানা বেজেই যাচ্ছে মিলনের! বেজে বেজে থেমে যাচ্ছে! আবার বাজছে! মিলনের কানে সে আওয়াজ ক্ষীণ স্বরে পৌঁছালেও ফোনের কাছে যাওয়ার উপায় নেই! ছাদের এককোণায় জলচৌকির উপর দাঁড়িয়ে সে তার চারপাশে রমণীদের  পরিক্রমণ সংখ্যা জরিপ করে চলেছিল! জেঠিমা পিসিমা খুড়িমা তাদের যত কন্যাবাহিনীর ঘেরাটোপে গলদঘর্ম মিলনের মন বার বারই ফোনের দিকে ছুটে যাচ্ছিল! সকাল থেকে বার পাঁচেক তিথির কল এসেছিল! প্রতিবারই সে কোন না কোন কাজে ব্যস্ত ছিল! পরে ফাঁকা পেয়ে সে যখন তিথিকে পালটা কল করল অপারেটর নিঃস্পৃহ কন্ঠে ফোন বন্ধ রাখার বার্তা ঘোষণা করল!! এবার ছয় নম্বর কল টাও বেজে যখন বন্ধ হয়ে গেল তখন  দুনিয়ার হতাশা মিলন কে গ্রাস করল! রেগে গিয়ে বলে উঠল
 - দুত্তোর নিকুচি করেছে এই বিয়ের! মেয়েটা সকাল থেকে খাওয়া না দাওয়া না, উপোস থেকে সমানে আমাকে ফোন করে যাচ্ছে তোমাদের জ্বালায় একটু ফোন ধরার জো নেই! কথাটা বলেই মিলন একটু বেকায়দায় পড়ে গেল! পাশ থেকে মাসতুতো বোন শতাব্দী বলে উঠল- বাবাগো! বিয়ের আগেই বৌদির উপর দাদার প্রেম একেবারে উথলে উঠেছে! পারিনা!
 - গাট্টা খাবি কিন্তু উল্লুক! তুই দাঁড়ানা একঘণ্টা এই জলচৌকি র উপর! মেক আপ সব গলে নামবে!
 - ও মা আ আ! দেখো না দাদা মারবে বলছে!
 - আঃ তোদের আজকের দিনেও ঝামেলা না করলে হয় না বুঝি?? মিলন! আরেকটু অপেক্ষা কর বাবা! হয়ে এসেছে! গায়ে হলুদ মাখানো হয়ে গেলেই জল ঢেলে তোর ছুটি!
 - ও দিদি ছেলের আমার ঠাণ্ডা লেগে গেল! এবার গায়ে হলুদ টা দাও দিকি! পাশ থেকে পিসিমা তাড়া লাগায়!
 অগত্যা মিলন কে এত গুলো প্রমীলা বাহিনীর আঙুলের অত্যাচার সহ্য করতে হয় বিনা বাক্যব্যয়ে!! হলুদ পর্ব সমাধা করে গায়ে একটু জল ঢেলেই মিলন ছোটে ফোনের কাছে! গা মোছাও তার কাছে পরিহাস মনে হয়! ফোনের কাছে আসতেই ঠিক তখনই আরেকবার ফোন বেজে ওঠে! কালবিলম্ব না করে ফোনটা কানের পাশে ধরতেই ওপাশ থেকে একটা অভিমানী রিনরিনে কণ্ঠস্বর বেজে উঠল- কি গো তুমি? আজকের দিনেও আমার ফোনটা ধরার সময় হয় না তোমার?? তুমি কি বোঝ না একটুও?!
 - সরি সোনা! সকাল থেকে দম ফেলার সময় পাচ্ছি না! আমিও তোমাকে কতবার ফোন করলাম! পেলাম না! কোথায় ছিলে তিথি! মিলন তখন বন্যার বাঁধ সামলাতে ব্যস্ত! বড় অভিমানী মেয়ে তিথি! একটু অমনোযোগী হলেই আজকের এই শুভ দিনে চোখের জলে নাকের জলে ভাসিয়ে দেবে!
 - আমি মেহেন্দি করছিলাম! তোমার গায়ে হলুদ হয়ে গেছে??তাড়াতাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা কর! আর খিদে সইতে পারছি না! কাল রাত থেকে না খাওয়া!
 - তিথি আমার কথা শোন! খেয়ে নাও চুপি চুপি! কিছু হবে না! আমি বলছি!
 - তুমি খেয়েছ??
 - থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে ফোন হাতে মিলন! চোখের সামনে বহুদিন আগের এক ঘটনা উন্মোচিত হতে থাকে!
 সিটি কলেজ! প্রাঙ্গণে বহু ছেলেমেয়ের ভিড়! আজ কলেজের প্রথম দিন! মিলন দুরুদুরু বুকে ঢুকছে কলেজ প্রাঙ্গণে! চারদিকে কত রঙিন প্রজাপতিদের ভিড়! সকলেই নিজ নিজ গন্তব্যের পথে চলমান! এই দ্রুতগামী জীবনের মাঝখানে মিলন হঠাৎ নিজেকে খুব অসহায় বোধ করে! আর্টস নিয়ে ভর্তি হওয়াটা বাড়ির কেউ ভাল চোখে দেখেনি! অথচ মিলনকে এই বিষয়টা অন্ধের মত টানে! সে লেখালেখি করতেই বেশি ভালবাসে! বাড়িতে তাই নিয়ে ঝামেলা! রাগে অভিমানে সকালে কিছু না মুখে দিয়েই কলেজে চলে যায় মিলন! কিন্তু ক্যাম্পাসে পা দিয়েই অজানা এক আশংকার সঙ্গে পেট টাও কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে মিলনের! বোঝে খিদে পাচ্ছে তার! এদিক ওদিক তাকিয়ে কলেজ বিল্ডিং লাগোয়া একটি জলের কল নজরে পড়ে তার! বুভুক্ষু র মত সেই কলের নীচে মুখ দিয়ে জল খেতে যেতেই একটা জুঁই ফুলের মিষ্টি সুবাসের সাথে একটা নারীকন্ঠের কাতর নিষেধাজ্ঞা তার কানে ভেসে এল!
 - উঁহু দাঁড়ান! খাবেন না!
 আচমকা নারীকন্ঠে মিলন একটু থতমত খেয়ে গেল! আর ফোর্সে পড়া জলের ধারা তার জামার খানিকটা ভিজিয়েও দিল! রেগেমেগে নারীকন্ঠকে জবাব দিতেই পুরো থ হয়ে গেল মিলন! এ কাকে দেখছে সে?! লাল সালোয়ার পড়া এক তন্বী যুবতী তার সামনে দাঁড়িয়ে! কপালে এসে পড়েছে অবাধ্য কেশরাশি!  পাতলা চেরিফলের মত ঠোঁটের উপর জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম! সবমিলিয়ে মেয়েটির নরম লাবণ্য মিলনকে স্তব্ধ করে দিল খানিকক্ষণ!  
 - ঐ জল খেয়ে পেট খারাপ না করলেই নয় কি?
 - না মানে..... এই একটু! মিলন তোতলাতে থাকে!
 - থাক! আর মানে বের করতে হবে না! এই নাও জলটুকু খেয়ে নাও! বলে সে ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে মিলন কে এগিয়ে দেয়! মিলন বোতলের জলটুকু এক নিঃশ্বাসে শেষ করে দেয়! পরক্ষণেই লজ্জা পেয়ে যায়!
 - এবাবা! তোমার জল তো শেষ করে দিলাম!
 - তাতে কি হয়েছে! মা বলে দিয়েছে পথে ঘাটে কাউকে জলতেষ্টা পেয়েছে দেখলে নিজের বোতল দিয়ে দিতে! তাছাড়া ওই কলের জল কত নোংরা কে জানে?
 এক সাথে এত গুলো শব্দবাণ মিলনের কানে যেন মধু বর্ষণ করতে লাগল! কে এই মেয়ে?  কোথা থেকে এসেছে? কত বসন্ত তো পার হয়ে গেছে!  কত পুজোর রোশনাই এসেছে আর গেছে! কেউ তো তাকে এভাবে জল খাওয়ায় নি! কিসের পরীক্ষা নিচ্ছে বিধাতা?
 - তোমার নাম কি?
 আচমকা কোকিলকণ্ঠী র স্বরে চিন্তাজালে ছেদ ঘটে মিলনের!
 - আমি....ম...ম...মিলন!
 - আচ্ছা তুমি তোতলা নাকি! হেসে গড়িয়ে পড়ে তন্বী!  
 কিরকম যেন রাগ হয়ে যায় মিলনের! জল খাইয়েছে বলে যা ইচ্ছে তাই বলবে?
 - না আমি তোতলা নই! জল খাওয়ানোর জন্য থ্যাংকস!  
 - বাবাহ! কি রাগ! মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে কিছুই খাওয়া হয়নি! যে ভাবে জল টা খেলে?
 হঠাৎ মিলনের খেয়াল হল মানিব্যাগ নিয়ে বেরোনো হয়নি! রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়েই মানিব্যাগ এর কথা বেমালুম ভুলে গেছে!
আরো রেগে গিয়ে মিলন বলে উঠল
 - তুমি কি করে জানলে আমি খাইনি! আমি খেয়েছি! ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছে! চলি! আবারো ধন্যবাদ!  জায়গাটা তাড়াতাড়ি পেরিয়ে যায় মিলন! যেতে যেতে পিছনে ফিরে দেখল তন্বীর মুখে আষাড়ের মেঘ! মনে তার অনুশোচনা জাগল! এভাবে না বললেও পারত মেয়েটাকে! বেচারিকে কলেজের প্রথম দিন কষ্ট দিলাম! যাক!  পরে ক্ষমা চেয়ে নেব খন!
 ক্লাসে মিলনের লেকচারারের একটা বক্তব্য মাথায় ঢুকলো না! সারা ক্লাস ধরে তার চোখে অবাধ্য নরম চুলের গোছা গুলো খেলা করতে লাগল! আচ্ছা! মেয়েটার নাম তো জানা হয়নি! নিজের বোকামিতে নিজেরই গালে চড় মারতে ইচ্ছা করছিল! কোনমতে বাংলার ক্লাস টা কাটাল! মনটা ক্রমেই আজ অশান্ত হয়ে উঠেছে! তন্বী র সাথে আজ দেখা করতেই হবে আবার! বেয়াড়া খিদেটা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে! ক্যান্টিনের দিকে গুটি গুটি পা বাড়াল মিলন! মনে একরাশ লজ্জা আর অভিমান! ক্যান্টিন মালিক কে সে আজ বলবে যে তার পয়সা নেই?? তাও কলেজের প্রথম দিনে? ক্যান্টিনে পৌঁছে সে দেখে সব চেয়ার টেবিল দখল হয়ে গেছে! কলেজের সব ছেলে মেয়ে গুলো জটলা করছে! কোণের দিকে টেবিলে শুধু একজন বসে রয়েছে! মাথা ঝুকিয়ে ফোনে কার সাথে কথা বলছে যেন! বুকটা ধক করে উঠল মিলনের! তন্বী!!  ভাল করে একটু আড়াল থেকে দেখে মিলন! মেদহীন ফর্সা শরীর! কপালে আবাধ্য চুলের গোছা মেয়েটি কে চারপাশের থেকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে! প্রতিমার মত মুখখানি!  আচমকা মেয়েটি চোখ তুলে তাকাতেই মিলনের চোখাচোখি হয়ে যায়! লজ্জায় মিলন চোখ নামিয়েই জায়গাটা থেকে সরে আসে! গুটি গুটি পায়ে কলেজের পিছন দিকটায় চলে আসে! জায়গাটা অপেক্ষাকৃত নির্জন! একটা গাছের নীচের বেদিটায় ধপাস করে বসে পড়ে! মাথাটা কেমন যেন ঘুরছে! ঝাপসা চোখে দেখতে পেল বিল্ডিং লাগোয়া সেই জলের কলটিকে! টলমল পায়ে এগিয়ে কলটা খুলে দিতেই একটা নরম হাত কলশুদ্ধ তার হাতখানি ঘুরিয়ে বন্ধ করে দেয়!
 - তখনই জানতাম আবার আসবেন!
 - আমি জল খাব সরে যান!
 - খালি পেটে খেতে নেই জল!
 - আমি যেমন করে খাই আপনার কি? মিলন যেন মরিয়া হয়ে ওঠে! তন্বী পাত্তা না দিয়ে জলের বোতল এগিয়ে দিতে দিতে বলে খেয়ে নাও! তোমার ব্যবস্থা করছি আমি!
 - মিলন আর কিছু না বলে জল টুকু গোগ্রাসে শেষ করে!
 - এসো আমার সঙ্গে! বেদীটায় বসবে চল!
 মিলনের হাতটা ধরে তন্বী বসিয়ে দিল! তারপর বলে উঠল
 - খেয়েছ?
 মিলন লক্ষ করে কখন আপনি টা তুমি হয়ে গেছে! মুখটা নামিয়ে বলে - না!
ব্যাগ থেকে মেয়েটি টিফিন ক্যারিয়ার এগিয়ে দেয় মিলনের দিকে!
 - খেয়ে নাও!
 অবাক চোখে তাকাল মেয়েটির চোখে!
- তুমি খেয়েছ!
দীঘির মত কালো চোখটিতে মিলন ক্রমশঃ হারিয়ে যেতে থাকে! কিসের একটা অপ্রতিরোধ্য টান সৃষ্টি করছে নিয়তি?? কে এই মেয়ে??
 - তোমার নাম তো জানা হলনা আমার??
 - মেয়েদের নাম জানতে নেই! বলেই রিনরিনে হাসিতে ভেঙে পড়ে তন্বী!  
 - এই আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে! বাস ধরব! কাল কিন্তু মনে করে খাবার এনো!
 - চলো তোমাকে এগিয়ে দিই!
 - না আজ না! কাল এসো!
 অবাক হয়ে গেল মিলন! কেন? আজ নয় কেন?
 - উফ! তোমার ধৈর্য এত কম কেন? পরে জানবে!
 - আচ্ছা!  সাবধানে যেও!
 - তুমিও সাবধানে থেক!
 মিলনের মস্তিষ্ক থেকে জুঁই ফুলের গন্ধ টা ক্রমে দূরে সরে যেতে থাকে! মিলন যেই পিছন ঘুরে যাওয়ার উদ্যোগ করছে আচমকা রিনরিনে কণ্ঠস্বর ভেসে এল খিলখিল হাসির সাথে!
 - তিথি!! তিথি রায়! আসি!
 - মিলন বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে থাকে তার যাওয়ার পথে! কত দিন পার হয়ে গেছে মিলনের এমন ভালবাসার জন্য! জুঁই ফুলের গন্ধের সুবাসের মতন কেউ তার জীবন কে এভাবে দমকা হাওয়ার স্রোতে ভাসিয়ে দিয়ে যায়নি! তিথি.......তন্বী.....লাল সালোয়ার.....অবাধ্য চুলের গোছা....সবটা মিলিয়ে কেমন যেন ঘোরের মধ্যে বাড়ি ফিরে এসেছিল মিলন!
 - কি গো! কতক্ষণ চুপ করে থাকবে? বল! খেয়েছ তুমি?
 - এতক্ষণ পরে তিথির ডাকে সম্বিৎ ফেরে মিলনের!
 - না গো! খাওয়া হয়নি! তোমার গায়ে হলুদের তত্ব টা পাঠিয়ে দিচ্ছি! সব মিটিয়ে আমাকে একটা ফোন কোরো! তুমি কিছু মুখে না তুললে আমার গলা দিয়ে নামবে না গো!আমার কলেজের প্রথম দিনের সেই মেয়েটা নিজে অভুক্ত থেকে আমাকে খাইয়েছিল! আমি এত পাষাণ নই গো তিথি!
 ফোনের ওপার থেকে ফোঁপানির আওয়াজ শুনতে পায় মিলন!
 - তিথি তুমি কাঁদছ? আজকের এই শুভদিনে অন্তত ওই কাজটি কোরোনা প্লিজ!
 - তুমি আমাকে এত ভালবাস?
 - এটা প্রশ্ন হল তিথি?
 - মিলন!  যদি এমন হয় আমি মরে যাই! তুমি আমাকে ভালবাসবে?
 - তিথিই....ইইই!  কি হচ্ছে কি?
 এবার মিলনের মনে হচ্ছে চোখ ফেটে জল নামবে!
 - কি পাগলামি তিথি??! প্লিজ এসব বোলোনা!
 - না গো না! আমি তোমার হাত থেকেই সিঁদুর নেব! নেবই! তোমাকে আমি বড় ভালবাসি মিলন!  তোমাকে হারাতে চাইনা!
 - কে বলেছে তুমি হারাবে? কি হচ্ছে তিথি? কেন বলছ এসব?
 - তুমি পঞ্জিকা বিশ্বাস কর?
 - খুব একটা করি না! কেন?
 - কন্যা রাশির ভাগ্য গণনা বলছে বিবাহে বিঘ্ন! আর উঁচু স্থান থেকে পড়ে গিয়ে প্রাণহানির সম্ভাবনা!
 - যাহ! আগে ওই পঞ্জিকা ফেলো! যতসব বাজে বই! আর কখনো এরকম বলেছ তো দেখো আমি কি করি!
 - কি করবে? তিথির গলায় কপট দুষ্টুমি খেলা করে!
 - বুঝিয়ে দেব ফুলশয্যার রাতে! এখন শুধু দিন গোনো!
 - ইস কি অসভ্য! এই মা ডাকছে! ফোনটা ছাড়ার আগে আমাকে ওই জিনিষ টা দাও!
 মিলন জানে তিথি কোন জিনিষ টা চাইছে! আস্তে করে এদিকওদিক তাকিয়ে সে স্পীকারের উপরে একটা ভেজা চুমু খায়! বেশ খানিককাল উভয়ে চুপ থাকে! তারপর মিলনই নীরবতা ভাঙে
 - তিথি!
 - উঁ!
 - চুপ কেন!
 - এভাবে আমাকে চুমু খেলে কথা বলব কি করে?
 দুজনেই অতঃপর বাঁধভাঙা হাসিতে ভেঙে পড়ে!
সময় ক্রমশ এগিয়ে যায়! নিয়তিও অলক্ষে জাল বোনে ভাগ্যের! মাঝে মাঝে মিলন ভাবে তিথির মত মেয়েকে পাওয়া শুধু গর্ব নয় সৌভাগ্যের ব্যাপার! কলেজের সবকটা মেয়ে তিথি কে হিংসা করত! কারণ টা আজ মিলন বোঝে! তিথির মত গুণ খুব কম মেয়ের আছে! সে শুধু ভালবাসতে জানেনা উজাড় করা ভালবাসা দিতেও জানে! প্রথমে দুই বাড়ির অমতে তিথি একগাদা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে! অনেক কষ্টে তাকে বাঁচান সম্ভব হয়! তারপর আর দ্বিতীয় কোন সম্ভাবনা খোলা রাখেনি মেয়ের মা বাবা! প্রথমে মিলনের বাবা রাজি না হলেও তিথিকে সামনাসামনি দেখে খুব পছন্দ হয়ে যায়! ইতিমধ্যে মিলন ও এস এস সি দিয়ে স্কুল শিক্ষকতায় নিযুক্ত হয়েছে! বিবাহের প্রাথমিক লক্ষণ গুলো সবই ফলপ্রসূ হলেও কেন জানিনা মিলনের মন আজ সকাল থেকেই অস্থির হয়ে আছে! কিছুতেই শান্তিতে থাকতে পারছেনা! সকাল থেকে বাম ভুরুটা নেচেই যাচ্ছে! আরেকটা অদ্ভুত জিনিষ সে সকাল থেকে লক্ষ্য করেছে! গলির মুখে কুকুর টা উপরের দিকে মুখ তুলে করুণ সুরে কেঁদে চলেছে! রাগ নেই.....রাগিণী নেই....ছন্দ নেই.......একটানা এই কান্নার সুরে মিলনের মন টা কেমন যেন ছটফট করে উঠল! অন্যমনস্ক ভাবেই হাতটা কপালে উঠে এল তার! মনে মনে বলে ওঠে
 - ঠাকুর! আজকের দিন টা ভালোয় ভালোয় কাটিয়ে দাও! একবার মনে হল পঞ্জিকা টা খুলে দেখে তাতে মেষ রাশির কথা কি লেখা আছে? পরক্ষণেই হাসি পেয়ে গেল মিলনের! ধুর! এসব কি আবোলতাবোল ভাবছে সে! দোতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সে দেখতে পেল তত্বের গাড়িটা গলি ছাড়িয়ে বড় রাস্তায় উঠল! গাছের ফাঁক দিয়ে কোথাও একটা কাক অবিশ্রান্ত ডেকে চলেছে!!
 

বিশাল বড় ছাদখানি! এ ছাদ বড় ভাল লাগে তিথির! প্রতি বিকেলে ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে অস্তগামী লাল সূর্যের দিকে চেয়ে কত কি ভাবে সে! লাল রশ্মি মেঘের মধ্যে দিয়ে তার নরম মুখটায় এসে পড়ত আর তিথি অবাক হয়ে যেত! বিশাল আকাশের তলায় মানুষের জীবন টা কত ক্ষুদ্র না? কত জীবনের আসা যাওয়া এই ক্ষুদ্র পৃথিবীতে! অথচ ঐ আগুনের গোলাটা নিষ্পলক ভাবে পৃথিবীর দিকে চেয়ে থাকে! কত কাল....?? কত যুগ??......তার ক্ষয় নেই.....বিলয় নেই.....তিথি অবাক হয়ে দেখে দ্রুতগামী নক্ষত্রের খসে পড়া! এই বুঝি এক নতুন প্রাণের জন্ম হল! সাথে সাথে সে কতবার চোখ বুজে মিলনের জন্য মানত করেছে! তিথি তার নরম বুকটার মধ্যে মিলনের জন্য ঢিপঢিপানি টের পায়!
 - তিথি মা! সন্ধে হয়ে গেল! চলে আয় মা! কনে সাজানোর লোক এসে গিয়েছে!
আচমকা মহিলা কন্ঠে সম্বিৎ ফেরে তিথির!মিনতি পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে তিথির,
 - যাই মা! আরেকটু! তুমি যাও! আরেকটু পরেই নেমে আসছি আমি!
 মিনতি এগিয়ে এসে তিথির কপাল টা ধরে আলতো চুমু খেলেন! তিথির চোখে তখন জল! মুছিয়ে দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন
 - মা রে! মেয়ের কাছে শ্বশুর বাড়িটাই সব! সব কিছু নিজের মনে করে মানিয়ে নিবি! কখনো যদি মনে কষ্ট পাস......
 কথা শেষ হয় না! তিথি মা কে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে ওঠে
 - মাগো! অজান্তে তোমাদের মনে খুব কষ্ট দিয়েছি গো! কিন্তু বিশ্বাস করো ওকে আমি দূর করতে পারতাম না মা! কিছুতেই না!
 - চুপ পাগলি! আজকের দিনে আর ওসব কথা না! আয় নীচে নেমে আয়! কনে সাজানোর মেয়ে এসে গিয়েছে! অপেক্ষা করছে! বলে মহিলা শাড়ির আঁচলের খুঁটে চোখ মুছে তাড়াতাড়ি সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেলেন! তিথি চোখ মুছে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতে গিয়েই ব্যাপারটা নজরে পড়ল! পোষা ময়নাটা জলের ট্যাংকের দেওয়ালে ঝোলানো খাঁচায় অস্বাভাবিকরকম ছটফট করছে! কোনদিন কিন্তু করেনা এরকম! ঠিক করল পাখিটাকে মুক্তি দিয়ে যাবে আজ! ওড়নাটা কোমরের সাথে কষে বাঁধল! একটা পা জলের পাইপে রেখে ভর দিয়ে উঠতে গিয়েই অনুভব করল পা টা পিছলে যাচ্ছে! পাটা সাবধানে নামিয়ে নিল তিথি! নরম বুকটা হাপরের মত ওঠা নামা করছে! কপালের উপর জমছে বিন্দু বিন্দু ঘাম! তিথি দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় রত হল! ময়নাটা গলা দিয়ে তীক্ষ্ণ চিৎকার শুরু করে দিয়েছে ততক্ষণে! সাবধানে পাটা পাইপের উপর রেখে বাঁহাত দিয়ে ট্যাঙ্কের সাইডটা ধরে ফেলেছে তিথি! নিঃশ্বাস বন্ধ করে যখন পুরো ভর দিয়ে ট্যাঙ্কের উপর উঠল একঝলক ঠান্ডা হাওয়ার স্রোত তিথিকে বুলিয়ে গেল! স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ময়নার খাঁচাটাকে হাতে নিয়ে দরজা খুলে দিল! কিন্তু প্রতিদিনের অভ্যস্ত পাখি তার চিরচেনা বাসা ছেড়ে একচুল ও নড়ল না! হাতে করে সন্তর্পণে ময়নাটাকে বাইরে বের করে আনে! নীচের দিকে তাকাতেই মাথা ঘুরে উঠল তিথির! অত উপর থেকে নীচে সিমেন্টের বেসমেন্ট টাকে খুব অদ্ভুত লাগছে! দূরে রাস্তায় আস্তে লাইট জ্বলে উঠছে! নীচের থেকে সানাইয়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছে সে! ট্যাঙ্কির উপরের চাতাল টা পিছল হয়ে গেছে গতদিনের বৃষ্টিতে! পাখিটার চকমকে চোখ দুটোকে দেখে ভারি মায়া হল তিথির! প্রতিদিন কলেজ থেকে ফিরে এই ময়নাটিই ছিল তার একমাত্র খেলার সাথি! ময়নাটির মাথায় আলতো করে চুমু খেল তিথি! একটু যেন কেঁপে উঠল পাখিটি! ফিসফিসিয়ে তিথি বলে উঠল
 - যা পাখি! তোকে মুক্ত করে দিয়ে গেলাম! দুই হাতের বন্দী ঘেরাটোপ থেকে মুক্ত করার জন্য ট্যাঙ্কের চাতালটির আরেকটু কিনারে সরে এসে পাখিটিকে মুক্ত আকাশে ভাসিয়ে দিল তিথি! পাখিটি তিথির মুখে ডানার হালকা ঝাপটা দিয়েই হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দিল! শরীরের ভারসাম্য যেন একটু কেঁপে গেল তার! ব্যালেন্স রাখতে গিয়ে পিছনের পা টা চাতালের বাইরে দিয়ে ফেলল সে! পাখি তখন অনেকদূর বেরিয়ে গেছে.....দূর আকাশে বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে ক্রমশঃ! এত ব্যস্ত কোলাহলের মধ্যে মৃদু ধপ শব্দটি কারুর কানে এসে পৌছালনা! শুধু মেহেন্দি মাখানো হাতটি একটু কেঁপেই চিরকালের মত নিথর হয়ে গেল!

কোলাহল মুখর বাড়িটার সামনে একটা সাদা টয়োটা গাড়ি এসে দাঁড়াল! পাত্রীপক্ষের যারা ছিল তারা সবাই হৈ হৈ করে ছুটল বর দেখতে! বরণ করতে হবে যে! এই বাড়ির একমাত্র মেয়ের জামাই বলে কথা! কিন্তু মিনতির মনে একটা প্রবল অস্বস্তি দেখা দিল! মেয়েকে সেই কখন নামতে বলেছেন ছাদ থেকে....এখনো তো এলনা! কি করছে কি? শেষকালে লগ্নভ্রষ্টা হবে নাকি তাদের মেয়ে??
বীরেন বাবু ততক্ষণে বরপক্ষ সামলাতে ব্যস্ত! মিনতি ভাবল একবার যাই স্বামীর কাছে.....খুলে বলি সব ঘটনাটা! কিন্তু পরক্ষণেই সামলে নিলেন! বিয়েবাড়ি তে কথাটা জানাজানি হয়ে গেলে অলুক্ষুণে ব্যাপার ঘটবে! তার চেয়ে নিজেই ব্যাপারটা দেখে আসার জন্য সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালেন মিনতি! ছাদে গিয়ে দেখেন শূন্য ছাদ খাঁখাঁ করছে! তিথিকে কোথাও দেখতে পেলেন না তিনি! একদমকা হাওয়ার স্রোত মায়ের মনের ব্যাকুলতাকে আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল!
 - তিথিইইই! কোথায় তুই মা! আয়! দেরি হয়ে যাচ্ছে তো!
 ফাঁকা ছাদে কথাগুলি প্রতিধ্বনি হয়ে তার কাছেই ফিরে এল! কোথায় তার মেয়ে? আকাশে পূর্ণ চন্দ্র! দুধসাদা আলোতে গোটা ছাদ টা যেন স্নান করছে  একা একা! অস্তিত্বহীন প্রেতের মতন ছাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকেন মিনতি!

নীচের ঘরে বসে বসে তখন মিলনের একজোড়া তৃষার্ত চোখ খুঁজে বেড়াচ্ছে নিজের আশ্রয় কে! দুই এক বার জিজ্ঞাসাও করা হয়ে গিয়েছে তিথির ব্যাপারে! জবাবে ইয়ার্কি ঠাট্টা ছাড়া কিছুই পায়নি! নাহ! আর কিছু জিজ্ঞাসা করবে না সে! তিথি আসুক! অভিযোগ জানাবে সে! আসুক! এক এক লহমা মিলনের কাছে একেক বছর লাগছে যেন! ভুরুটা আবার এত কাঁপে কেন? নিকুচি করেছে! মেয়েটা এখনো এলনা........!!!

সারাবাড়ি আজ আলোর রোশনাইয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে! কিন্তু পিছন দিকটা অপেক্ষাকৃত অন্ধকার নির্জন!  ওদিকে খুব একটা বেশি লোকের চলাচল নেই! সামনের গেটে বসানো দুটো বাবল মেশিন গুলো ফেনা ছড়িয়ে যাচ্ছে অনবরত!  বাচ্চা গুলো সেগুলোকেই ধরবার জন্য অবিশ্রান্ত দৌড়ে যাচ্ছে! মাঝে বড়দের বকাঝকাও জুটে যাচ্ছে কপালে! আচমকা বাগানের দিক থেকে এক ঠান্ডা বাতাসের স্রোত বাড়ির পিছন দিকটায় বয়ে গেল! তারপরই গোটা বাড়ি ডুবে গেল অন্ধকারের সমুদ্রে! লোডশেডিং....!  জেনারেটর দুটো ভট ভট শব্দ করেই বন্ধ হয়ে গেল! চলল না! বাড়ির ভিতর থেকে সবার একটা মিশ্রিত গুনগুন শব্দ উঠতে লাগল এখানে সেখানে! বাড়ির ভিতর তখন চাঁদের আলো ধুইয়ে দিচ্ছে! মিলন কে বসিয়ে রেখে বন্ধুরা বাইরে বেরিয়ে দেখতে গেল ব্যাপারটা! মিলন ঘরে একা! মনের অস্থিরতা টা আরো কয়েকমাত্রা বেড়ে গেল! ধুতি টোপর সামলে বসার ঘর থেকে বেরিয়ে এল! বাড়ির ভিতর আবছা কিছু নজরে এল! মানুষগুলো সব বাইরে জটলা করছে! এক মিশ্রিত কোলাহল মিলনের কানে আসছে! চাঁদের আলো আংশিক এসে পড়েছে ছাদনাতলায়! যজ্ঞের আগুন তখনো ধিকি ধিকি জ্বলছে! আবছা অন্ধকারে মিলন দেখল ছাদনাতলায় কনের আসনে কে যেন বসে আছে! মাথার অংশটুকু চেলি দিয়ে ঢাকা! বুকটা ধক করে উঠল তিথি নয়তো? হ্যাঁ! তিথিই তো! কিন্তু ওখানে ওভাবে বসে আছে কেন? মিলন একপা একপা করে এগিয়ে গেল নারীমূর্তি র দিকে
 - এই পাগলি! এখানে কখন থেকে আছ? আমাকে ডাকতে পারলে না?
 - এই তো এখুনি এলাম! কারেন্ট টা চলে গেল কিরকম দেখলে?
 - হে হে! বিধাতাও চায় বুঝলে অন্ধকারে আমাদের বিয়ে টা হোক!
 - বাজে কথা রাখতো! খেয়েছ কিছু?
 - হ্যা খেলাম তো! ঢোকার মুখে রসগোল্লা দিয়ে বরণ করল না? হে হে
 - আবার ইয়ার্কি?  দাঁড়াও বাপিকে বলে দেব!
 - নালিশ করে বালিশ পাবে ভেবেছ?  তুমি তো এখন আমার !
 - এখনো তো হইনি! বলেই রহস্যময় হাসি হাসল তিথি! সেই রিনরিনে হাসি! মিলন বিহ্বল হয়ে গেল!
 - আচ্ছা মিলন আমি একটা জিনিষ চাইছি দেবে কি?
 - বলেই দেখনা!
 - এই নাও! বলে তিথি একটা সিঁদুরদানি এগিয়ে দেয় মিলনের হাতে! নাও! এই সিঁদুর আমার নাক থেকে সিঁথি পর্যন্ত পড়িয়ে দাও! তাড়াতাড়ি!
 - এখনই!! এই অন্ধকারে? তোমার কি হয়েছে তিথি আজ?
 - খুব মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে! প্লিজ মিলন! প্লিজ দাও!! শেষবার একটু আপন করে পেতে দাও তোমাকে!
 - এরকম বোলোনা গো! খুব কষ্ট লাগে একথা শুনলে! এসো কাছে এস! দিচ্ছি!
 তিথি মিলনের কোল ঘেঁসে এল! মিলন আর দেরি না করে তার স্বামীত্বের পরিচয় টুকু তিথির মাথায় উপুড় করে দিল! তিথি মিলনকে সামলাতে সময় দিলনা! সঙ্গে সঙ্গে মিলনের বুকে মুখ রেখে ডুকরে কেঁদে উঠল!
 - মিলন খালি পেটে থেকনা প্লিজ! খাবার খেয়ে নিও! আর রাস্তাঘাটের জল খেও না গো!
 - না খাবনা! প্লিজ কান্না থামাও পাগলি! তিথিকে আরো জোরে বুকে আঁকড়ে ধরে মিলন! একটা দমকা বাতাস ঘরের মধ্যে থেকে বাগানের দিকে ধেয়ে যায়! আর ঠিক তখনই ভটভট শব্দে জেনারেটর চালু হবার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির পিছন দিকটা থেকে বহু মানুষের কোলাহল মিশ্রিত আর্তনাদ ভেসে আসতে থাকে! মিলন হতভম্ব হয়ে দ্যাখে তিথি নেই তার বুকে! কোলাহল ক্রমে কান্নায় পরিণত হয়! মিলনের বুকটা ধধকধক করতে থাকে! টলমল পায়ে পিছন দিকের সিমেন্টের বেসমেন্টের দিকে এগোতেই দেখে অনেক মানুষের জটলা! মেঝেতে কাকে যেন শোয়ানো আছে! চারদিকে রক্তের আলপনা! বীরেন বাবুকে দেখতে পেল মাটিতে শোয়ানো শরীর টা কোলে নিয়ে পাথর হয়ে বসে আছেন! চোখদুটো ক্রমে ঝাপসা হয়ে আসছে মিলনের! এও কি করে সম্ভব? তিথিকে তো নিজের হাতে সিঁদুর পরিয়েছে সে! সে এখানে এল কি করে! কি পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে মেয়েটি! কি সুন্দর লাগছে তার তিথিকে! আস্তে আস্তে বসে পড়ল তিথির মাথার পাশে! বীরেন বাবুর হাত থেকে ধীরে ধীরে মাথাটা নিজের কোলে নিয়ে নিল!
 - দেখো তিথি! চোখ খোলো!  আমাদের শুভ দৃষ্টি হয়ে গেছে সোনা! আর ঘুমিও না! আমি আর কখনো রাস্তার জল খাবনা! দেখো! ওঠো তিথি!
 জীবন মরণের সীমানা অতিক্রান্ত সে শরীর ভালবাসার এমন ব্যাকুল আহ্বানেও সাড়া দেয় না! মিলন অবাক হয়ে দেখে তিথির নাক থেকে সিঁথি পর্যন্ত লম্বা সিঁদুরের রেখা রক্তের সাথে চুঁইয়ে পড়ছে! সানাই তখনো বিলাপ করে যাচ্ছে নব রাগিণী তে!......আকাশে তখন পূর্ণ চন্দ্র.......!!
# কপিরাইট@অরিন্দম, নবপল্লী


No comments:

Post a Comment

ফার্স্ট পোলিং, রিজার্ভ থেকে রণাঙ্গন

ফার্স্ট পোলিং, রিজার্ভ থেকে রণাঙ্গন  প্রত্যাশা মতই ভোটের চিঠি টা হাতে পেয়েই বিরক্তিতে ভুরু দুটো কুঁচকে গেছিলো। জানতাম আসবেই, এ এমন প্রেম! কি...