
সারারাত দু চোখের পাতা এক করতে পারিনি! পারিনি তার কারণ টা না বললে আমার সাধের পাঠককূল ভালবেসে বিরিয়ানি খেতে ডাকবে এ আশা আমি দুঃস্বপ্নেও করিনে! আসলে দন্তশূল ব্যাপারটা আমার জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে! দিনে দুইবার দন্ত মর্দন করার পরেও দন্ত গুলি এভাবে মালিকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে তা বোধকরি পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজ ও এতটা প্রত্যাশা করেন নি! তার উপর গিন্নীর নাসিকা গর্জন!সমুদ্র গর্জনের উপর আরেক কাঠি! এত গর্জন তর্জনে অতিষ্ঠ হয়ে নিভৃতে পদচারণা করতে থাকি অন্দর মহলে! রাত আরো নিঝুম হয়! সাথে বেদনাও সগর্বে জানান দেয় তার আমার প্রতি ভালবাসা!! চুপ করে মায়ের বিছানার দিকে এগিয়ে যাই! আমার নিঃশব্দ পদসঞ্চারে এক দেওয়াল টিকটিকি পলায়ন করে সশব্দে!
ঘুমন্ত মায়ের মাথায় আলতো হাত ছোঁয়াতেই মায়ের ঘুম ভেঙে যায়! আমি অবাক হয়ে যাই- কি গো! ঘুমাও নি??
মা তার প্রতিদিনকার বাসনমাজা খরখরে হাতটি মাথায় দিয়ে বলে -দাঁতের ব্যাথা আবার বেড়েছে নারে! তখনই বলেছিলাম ডাক্তার দেখিয়ে নে! কথা বলার ফাঁকে লক্ষ করলাম মায়ের মুখটা অব্যক্ত এক যন্ত্রণায় বেঁকে গেল! আমি তাড়াতাড়ি মায়ের মাথায় হাত দিয়ে শুধালাম - মা তোমার কোথাও কি কষ্ট হচ্ছে খুব? মা আমল না দিয়ে শুধু একটু মলিন হাসল! বলে- পা টা একটু ধরেছে!
আমি পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি পা ফুলে ঢোল! আশ্চর্য! তুমি এই পা নিয়ে সারা সকাল দাঁড়িয়ে রান্না করেছ? ঘরে এতগুলো লোক আছে কি করতে? মা শশব্যস্ত হয়ে বলে ওঠে ওরে ছাগল! আস্তে বল! মেয়ে উঠে যাবে! আবার খানিক নীরবতা! মা আচমকা বলে ওঠে তোর বাপে তো আমার হাতের রান্না ছাড়া খাবেনা! সেই কোন ছোটবেলায় তাঁর হাত ধরে এ বাড়িতে এসেছিলাম! কত জ্বর শরীর খারাপ কিছুকে পাত্তা দিই নি! মানুষটাকে আমার নিজের কষ্ট বুঝতে দিইনি! মেয়েমানুষের জান কই মাছের প্রাণ! বুঝলি বাবু! শরীরের নাম মহাশয় যা সওয়াবে তাই সয়! এখন আর এসব কিছু আর মনে হয় না!
আমি স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম! আজ দন্তবেদনায় বিনিদ্র রজনী যাপন করতে গিয়ে আমার জন্মদাত্রী মায়ের প্রতিরাতের বিনিদ্র কষ্টকর জীবনচর্যার ছবিটি ফুটে উঠল! মাকে ধরে ধীরে ধীরে শুইয়ে পায়ে আলতো হাত ছুঁয়ে বেরিয়ে আসছি পিছন থেকে মা বলে ওঠে বউমাকে জাগাস নে বাবু! তোর টিফিন করতে গিয়ে তার হাত ফালাফালা হয়ে গেছে! বেচারিকে ঘুমাতে দিস! আমি হতবাক! আমাকে তো বউ কিছু বলেনি! ওই অবস্থায় রাতের খাবার পর্যন্ত করে দিয়েছে!
চুপচাপ চলে এলাম! আশ্চর্য দাঁতের ব্যাথাটা আর নেই! ঝিমঝিম করছে চোয়াল দুটো! বউ এর পাশে এসে চুপ করে বসলাম! ডানহাতটা আড়াল করে ঘুমাচ্ছে বেচারি!
আশ্চর্য! কোনোদিন তো ছুটি চায়নি কাজ থেকে! একটা অলিখিত দায়িত্বভার সবার অলক্ষে পালন করে চলেছে! বউ এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই বউ জেগে ড্যাবডেবে চোখে তাকিয়ে রইল আমার দিকে! বলে- কি গো! ঘুমাও নি? ব্যাথা কমেনি? হাতটা তুলে বললাম তরকারি কাটতে গিয়ে হাত কেটে বসে আছ জানাওনি কেন? বউ মুখ বেঁকিয়ে বলে ওঠে -মরণ!
তখন পূব আকাশে রঙের খেলা..........যন্ত্রণাকে ছাপিয়ে নতুন ভোর আসছে!
অরিন্দম © নবপল্লী
ঘুমন্ত মায়ের মাথায় আলতো হাত ছোঁয়াতেই মায়ের ঘুম ভেঙে যায়! আমি অবাক হয়ে যাই- কি গো! ঘুমাও নি??
মা তার প্রতিদিনকার বাসনমাজা খরখরে হাতটি মাথায় দিয়ে বলে -দাঁতের ব্যাথা আবার বেড়েছে নারে! তখনই বলেছিলাম ডাক্তার দেখিয়ে নে! কথা বলার ফাঁকে লক্ষ করলাম মায়ের মুখটা অব্যক্ত এক যন্ত্রণায় বেঁকে গেল! আমি তাড়াতাড়ি মায়ের মাথায় হাত দিয়ে শুধালাম - মা তোমার কোথাও কি কষ্ট হচ্ছে খুব? মা আমল না দিয়ে শুধু একটু মলিন হাসল! বলে- পা টা একটু ধরেছে!
আমি পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি পা ফুলে ঢোল! আশ্চর্য! তুমি এই পা নিয়ে সারা সকাল দাঁড়িয়ে রান্না করেছ? ঘরে এতগুলো লোক আছে কি করতে? মা শশব্যস্ত হয়ে বলে ওঠে ওরে ছাগল! আস্তে বল! মেয়ে উঠে যাবে! আবার খানিক নীরবতা! মা আচমকা বলে ওঠে তোর বাপে তো আমার হাতের রান্না ছাড়া খাবেনা! সেই কোন ছোটবেলায় তাঁর হাত ধরে এ বাড়িতে এসেছিলাম! কত জ্বর শরীর খারাপ কিছুকে পাত্তা দিই নি! মানুষটাকে আমার নিজের কষ্ট বুঝতে দিইনি! মেয়েমানুষের জান কই মাছের প্রাণ! বুঝলি বাবু! শরীরের নাম মহাশয় যা সওয়াবে তাই সয়! এখন আর এসব কিছু আর মনে হয় না!
আমি স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম! আজ দন্তবেদনায় বিনিদ্র রজনী যাপন করতে গিয়ে আমার জন্মদাত্রী মায়ের প্রতিরাতের বিনিদ্র কষ্টকর জীবনচর্যার ছবিটি ফুটে উঠল! মাকে ধরে ধীরে ধীরে শুইয়ে পায়ে আলতো হাত ছুঁয়ে বেরিয়ে আসছি পিছন থেকে মা বলে ওঠে বউমাকে জাগাস নে বাবু! তোর টিফিন করতে গিয়ে তার হাত ফালাফালা হয়ে গেছে! বেচারিকে ঘুমাতে দিস! আমি হতবাক! আমাকে তো বউ কিছু বলেনি! ওই অবস্থায় রাতের খাবার পর্যন্ত করে দিয়েছে!
চুপচাপ চলে এলাম! আশ্চর্য দাঁতের ব্যাথাটা আর নেই! ঝিমঝিম করছে চোয়াল দুটো! বউ এর পাশে এসে চুপ করে বসলাম! ডানহাতটা আড়াল করে ঘুমাচ্ছে বেচারি!
আশ্চর্য! কোনোদিন তো ছুটি চায়নি কাজ থেকে! একটা অলিখিত দায়িত্বভার সবার অলক্ষে পালন করে চলেছে! বউ এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই বউ জেগে ড্যাবডেবে চোখে তাকিয়ে রইল আমার দিকে! বলে- কি গো! ঘুমাও নি? ব্যাথা কমেনি? হাতটা তুলে বললাম তরকারি কাটতে গিয়ে হাত কেটে বসে আছ জানাওনি কেন? বউ মুখ বেঁকিয়ে বলে ওঠে -মরণ!
তখন পূব আকাশে রঙের খেলা..........যন্ত্রণাকে ছাপিয়ে নতুন ভোর আসছে!
অরিন্দম © নবপল্লী

No comments:
Post a Comment