Sunday, 7 January 2018

খোরাকি কথা

আচ্ছা আজ গল্প নয়......বরং বহতা নদীর মত জীবনে বুদবুদ হয়েই মিলিয়ে যাওয়া ভাবনা গুলোকে বিনি সুতোর মত গাঁথতে চেষ্টা করি! আশা করি আপনারা পাশে থাকবেন!

আচ্ছা মনুষ্যত্ব হারায় কখন? আপনারা হয়ত ভাবছেন ধুর সন্ধে বেলা ভুতোবাবুর মাথায় নিশ্চয় ভুত ভর করেছে! বড় বেশি মানুষ হয়েচেন! আমি অবলীলায় এই অনুযোগ মাথা পেতে নেব!

একটা দিনের ঘটনার কথা বলি, ব্যস্ত শিয়ালদহ স্টেশন ধরে ইউনিভার্সিটি অভিমুখে চলেছি প্রতিদিনের চেনা অভ্যস্ত পথ ধরে আচমকা একটা দৃশ্য পথ আটকাল! 9A প্ল্যাটফর্ম এর শেষ মাথায় একটা ভিখারিনী তার শিশুকে তার দোমড়ান স্তন থেকে দুধ খাওয়ানোর দুঃসাহসিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল! আমার কিরকম যেন মায়া হল! অবশ্য এই দুর্বল গুণটি উত্তরাধিকার সূত্রে আমার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া! ভিখারিনী র পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কতদিন খাওনি দিদি? প্রশ্ন শুনে ও আমার দিকে এমন ভাবে চাইল যেন আমি পাগল সমগোত্রীয় কেউ! ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম দুজনেই ধুঁকছে অনাহারে! সারা শরীর ধূলি মলিন! বেশিদিন হয়ত বাঁচবে না! না বাঁচুক অন্ততপক্ষে খেয়ে মরুক! আমার খিদে লাগলে অন্নপ্রাশন থেকে শিখে আসা বিদ্যে পর্যন্ত গুলিয়ে যায় আর এ!!!! পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম সর্বসাকুল্যে আট টাকা খুচরো আর ব্যাগে তিনশ টাকা আছে! ভাবছিলাম সব টাকা দিয়ে দি! আচমকা পিছন থেকে বন্ধুদের ডাক এই পাগলা! কি করছিস বে! পিছন ফিরে দেখি বন্ধু গুলোর সাথে একজন পরমা সুন্দরি আসছে এদিক পানে! শালা পুরুষের আদিম প্রবৃত্তি! গেলাম ভুলে বেবাক ভিখিরিনীর কথা! চল! আজ তোকে আলাপ করিয়ে দিই! এ হল সৌমি! বাংলা ফার্স্ট ইয়ার! শুনে কিরকম যেন দাদাগিরি চাগিয়ে উঠল! গাম্ভীর্য বজায় রেখে বললাম তো কি? কেউ বলার আগেই মেয়েটি এগিয়ে আমার হাত দুটি ধরে বলল প্লিজ আমাকে একটু হেল্প করবেন? আসলে আমি স্পেশাল পেপার চেঞ্জ করব! লোকসাহিত্য আমার মাথায় ঢোকেনা! আপনার সাথে ডিপার্টমেন্টাল হেডের খাতির খুব! আপনি একটু ব্যাবস্থা করে দিলে ভাল হত! দাদাগিরির সাথে অন্যকিছুও চাগিয়ে উঠছে! জায়গাটা ত্যাগ করার আগে একবারো ওদের কথা মাথায় এলনা! ইউনিভার্সিটি গিয়ে কথাবার্তা বলে স্যরের প্রতিশ্রুতি ও মেয়েটির অসীম কৃতজ্ঞতা ও একটু ভাল বাসা আদায় করে ফিরছি পথে আচমকা ওই দুজন হতভাগ্যের কথা মনে পড়ল! পকেটে হাত দিয়ে দেখলাম টাকাটা যথাস্থানে আছে! হনুমানজির মন্দিরে প্রণামি পয়সা কটা দিয়েই দোকান থেকে খাবার কিনে ছুটলাম।স্টেশনে! এসে দেখি ৯A প্ল্যাটফর্মের মাথায় জনাকয়েক পুলিশের সাথে পাবলিক ভিড়েছে! ভিখিরিনী র রক্তমাখা শরীরটা উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে! কোলের মত লেপ্টে আছে শীর্ণকায় প্রানীটি! দেখে বমি পেল আমার! অনেক কষ্টে সামলে একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম! আর বলবেন না দাদা! খেতে পেতনা আজই লিভার বার্স্ট করে মরল জানোয়ার টা! কোলের বাচ্চাটা তো আগেই মরেছে! আমার সামনে তখন গোটা শিয়ালদহ দুলছে! পিছনে বন্ধুরা আমার নাম ধরে সমানে ডেকে চলেছে! কিন্তু আমার সামনে সেই রক্তমাখা জায়গাটি বিভীষিকা রূপ নিচ্ছে আস্তে আস্তে! দেখতে পাচ্ছি ছেঁড়া শাড়ি পড়া আমার মা কে! কাতর ভিক্ষা প্রার্থনা করে চলেছে! বুকের কাছে আমি প্রাণপণে শুষে চলেছি জীবন রস! আচমকা জামায় টান! বাবু দূটো ভিক্ষা দে না! হুঁশ এল! দেখি আট বছরের বাচ্চা একটা থার্মোকলে লজ্জা নিবারণ করছে! হাসি পেল! খুব হাসি পেল! খাবার গুলো বাচ্চার হাতে দিয়ে ছুটলাম হনুমানজির কাছে! দুটো জিনিষ জানা খুব দরকার! সময়ের আগে মানুষ নাকি মানুষের আগে সময়! মনে খুব রাগ! হনুমানজি জবাব না দিলে আজ থেকে প্রণাম বনধ! বিলকুল বনধ!!!!

অরিন্দম© নবপল্লি

No comments:

Post a Comment

ফার্স্ট পোলিং, রিজার্ভ থেকে রণাঙ্গন

ফার্স্ট পোলিং, রিজার্ভ থেকে রণাঙ্গন  প্রত্যাশা মতই ভোটের চিঠি টা হাতে পেয়েই বিরক্তিতে ভুরু দুটো কুঁচকে গেছিলো। জানতাম আসবেই, এ এমন প্রেম! কি...