© Copyrighted by অরিন্দম নন্দী
কিছু ঘটনা আজো ঘটে! কিছু দৃশ্য আজো দেখা যায়! উঁহু....সমস্যা সেখানে নয়! সমস্যা তখনই আসে যখন তোমার সামনে আঙুল তুলে জিজ্ঞাসা করা হয় এর প্রমাণ কি? নিরুত্তর থাকতে হয় সেসময়! কারণ তখন মুখ খোলা মানেই তো নিজেকে বাচাল প্রতিপন্ন করা! অথচ আমি নিজের চোখে দেখেছি অবন্তী কাকিমা কে গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে মিশে যেতে...চাঁদের আলোয়...করবী গাছের পাতার ভিতরে.. ভয় মেশানো অন্ধকারে!!
ফ্ল্যাশব্যাক ✒
জন্মসূত্রে আমি বাংলার নই! বাবা রেলের কন্ট্রোলে অফিসার ছিলেন! আজ এই জায়গা কাল ওই জায়গা পোস্টিং! অধুনা ঝাড়খণ্ডের এক দুর্গম পার্বত্য জায়গা দোনাপুসির এক ছোট্ট হসপিটালে আমার জন্ম! আরণ্যক পরিবেশে জন্মের সুবাদে আমার রক্তে গাছপালার ভালোবাসা মিশে গিয়েছিল! ডানপিটে ভাবটা আমার মজ্জাগত! কখনো বন্ধুদের সাথে পাহাড়ি ঝর্ণাধারায় স্নান করা, কখনো কবরের উপর নুয়ে পড়া বুনো কুলের গাছ থেকে কুল পেড়ে খাওয়া, রাতে নিশাচরের মত জঙ্গলে চড়ে বেড়ানো আর পরদিন সকালে মাতৃদেবীর হাতে আড়ং ধোলাই আমার বিধিলিপি ছিল! এখনও ভাবলে হাসি পায় কি সব দিন ছিলো....কিন্তু একদিন.....!
নতুন পড়শী ✒
আমরা বাবার রেলের কোয়ার্টারেই থাকতাম! আমরা বলতে আমি দিদি মা বাপি আর কাজের একটা মাসি বাসন্তী মাসি! সে মাসি ছিল উড়িয়া! উড়ে ভাষাগুলো সে সময়ে কিছুই বুঝতাম না কিন্তু ব্যাপক আনন্দ পেতাম! মাসি আমাকে খুব ভালোবাসত! ভালোবাসাটা টের পেতাম যখন হাতে করে আমার আর দিদির জন্য কালোজাম মাখা, আচার, কুল মাখা এইসব নিয়ে আসত! বাবা একটু গাঁইগুঁই করতেন বটে কিন্তু মায়ের প্রশ্রয়ে নীরবে মেনে নিতেন আমাদের খাওয়াদাওয়ার অত্যাচার! একদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই দেখি দিদি সারা বাড়ি গুছিয়ে বেড়াচ্ছে, সারাঘরে মিষ্টি একটা গন্ধ। মা ও দেখি নতুন শাড়ি পড়ছে! আমার বয়স তখন দশ কি বারো! এই বয়সে উত্তেজনার একটা স্বাভাবিক প্রাবল্য থাকেই! অনেক কষ্টে উদ্ধার করলাম কোলকাতা থেকে একটি পরিবার আসছে এখানে.. বাঙালি! বাবার জুনিয়র কর্মচারী! পাশের কোয়ার্টারে এসে উঠছে! রেলের সুইপারগুলো এসে সকাল থেকেই বাগান টাগান ছেঁটে সুন্দর করে রেখেছে! চারদিকে কেমন যেন সাজ সাজ রব! প্রবাসে বাঙালিদের কদর বাঙালিরাই করে! এই উৎসবের আমেজে আমরা বন্ধুরাও পড়াশোনার কথা বেবাক গেলুম ভুলে! স্কুলেও কেউ গেলাম না সেদিন! মায়ের তখন এদিকে তাকানোর সময় নেই! গোছাতেই ব্যস্ত! আমরা চারজন বন্ধু মিলে রাস্তার পাশের ধুলোতে উপুড় হয়ে বসে মার্বেল খেলছি! আচমকা গেটের সামনে একটা কালো অ্যাম্বাসেডর এসে দাঁড়াল! বুঝলাম পড়শী এসে গেছে! গাড়ি থেকে নেমে এল এক সুদর্শন যুবক। যুবক টি নেমেই পিছনের জনকে ইশারায় সাবধানে নামতে বললো! গাড়ি থেকে যে অপ্সরী নেমে এলেন পরে তাকে দেখে আমাদের চারবন্ধুরই চোখ ট্যারা হয়ে গেল! এ তো পুরো শ্রীদেবী! আমার ছোট্ট বুকের খাঁচাটায় হৃদপিন্ডের ধকধকানি টের পেলাম স্পষ্ট! এত সুন্দরী! স্পষ্ট শুনলাম যুবকটি বলছে - এসো অবন্তী! সব রেডি আছে! বুঝলাম শ্রীদেবী নয়! যুবতীর নাম অবন্তী!
শিহরণ ✒
নতুন পড়শী আসার পর থেকেই আমার সময় টা ফুরফুর করে কেটে যাচ্ছে! অবন্তী কাকিমা এর মধ্যে দুই একবার আমার ঘরেও এসে গিয়েছে! খাটে এসে যখন বসত তখন ইচ্ছে করেই আমি পিছনে চুপ করে সেঁধিয়ে দিতাম নিজেকে! ফ্যানের হাওয়ায় উড়ন্ত চুলগুলো আমার মুখে এসে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগিয়ে যেত! ফ্যান্টাসির জগতে মন ছুটে যেত! কানের লতি গরম হয়ে যেত! পরক্ষণেই অপরাধবোধে পিছিয়ে আসতাম! কিন্তু বহ্নিপতঙ্গের মতন অবন্তী কাকীমার রূপের আগুন আমাকে ঝলসাতে আসত! শুধু একজন......একজনই ভালো চোখে দেখত না ব্যাপার টা! বাসন্তী মাসি! মাসি একদিন আমাকে হিড় হিড় করে টেনে নিয়ে এসে সামনের লনের এককোণে সজনে গাছের তলায় লঙ্কা পোড়া শোঁকাতে থাকে! আমি হেঁচে কেশে জানতে চাইতাম মাসির এই কাজের কারণ কি! মাসি মুখটা চেপে ধরত! চোখেমুখে দেখতাম স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ! কিসের আতঙ্ক?? ভয়ে গুটিয়ে মাসির কোলে সেঁধিয়ে যেতাম আমি!
অলীক সুখ ও জ্বর ✒
আমাদের কোয়ার্টারে অ্যাটাচড বাথরুম থাকার দরুণ উন্মুক্ত স্নান ব্যাপারটা আমাদের ঘটেনি। হয়ে ওঠেনি! যার জন্য আজো খোলা জায়গায় স্নান করতে গেলে আজো কিরকম অস্বস্তিতে পেয়ে বসে আমাকে! কিন্তু পাশের কোয়ার্টারে কোন অ্যাটাচড বাথরুমের ব্যাবস্থা ছিলনা! বিকাশ কাকু ( নবাগত যুবকের নাম ছিল বিকাশ) রেলের দপ্তরে বলে বলে হয়রান হয়ে শেষপর্যন্ত প্রকৃতির বুকেই স্নান করাটাকে নিজেদের ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছিলেন! একটা সুবিধা অবশ্য ছিল যে চারদিকে দশফুট উঁচু পাঁচিলের দরুন ভিতরে ছিল নিরাপদ যদি না কেউ পাঁচিলের উপর উঠে না বসে! সেদিন কোয়ার্টারের পিছনের পোড়ো জমিটায় শীতের দুপুরে বন্ধুরা জমিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলছিলাম! খেলতে খেলতেই কর্ক টা আচমকা লাফিয়ে উঠে পাঁচিলের ধারের উপর এসে পড়ল! অগত্যা আমাকেই চড়তে হল পাঁচিলের উপর! লাগোয়া একটি গাছে উঠে সেখান থেকে অতি সন্তর্পণে পাঁচিলের উপর হামাগুড়ি দিয়ে কর্ক টা নিয়ে ঘুরতে যাব আচমকা চোখ চলে গেল বিকাশ কাকুর উঠোনের দিকে! দেখলাম অবন্তী কাকিমাকে....কলতলায় বসে পড়েছেন স্নান করতে.....গাছের পাতার আড়াল থেকে শুধু পিঠ টুকু দেখতে পাচ্ছিলাম...মোমের আলোর মত মসৃণ। জলবিন্দু গুলো মুক্তোর মত চকচক করছে....পিঠ ছাপান চুলের অগ্রভাগ লেপ্টে আছে সরু কোমরটির সাথে! অনাবৃত উর্ধাঙ্গ! বুকের ছোট্ট খাঁচাটায় ছোট হামান দিস্তার পিটুনিটা টের পেলাম আবার! কানের লতিটাও আস্তে আস্তে গরম হতে শুরু করেছে! বন্ধুদের চিৎকার কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছি না! আচমকাই মনে হল কাকিমা যেন আমাকে দেখতে পাচ্ছেন....পিছন থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম কাকি কোণা চোখে আমার উপস্থিতি বুঝে ফেলেছেন! তারপর যেটা ঘটল সেটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না আমি! দেখলাম কোমরের নীচ থেকে পিঠ বরাবর উপরে জড়িয়ে ধরেছে একটা জিনিস! জিনিস টা একটু ভালো করে নজরে করতেই সারা শরীরে একটা বিদ্যুৎ তরঙ্গ ছুটে গেল! জিনিসটা কিছুই না........কাকির জিভ! পিছনের পিঠ টা চেটে চলেছে! আমার কি হল কে জানে....শুধু এটুকু বুঝলাম জ্ঞান হারিয়ে পাঁচিলের উপর থেকে নীচে পড়ে যাচ্ছি! কি করে কারা আমাকে নীচে খড়ের গাদা থেকে উদ্ধার করেছিল কিছু মনে নেই! শুধু এটুকু মনে আছে সেদিন রাতেই গায়ে ধুম জ্বর এসেছিল! আধো তন্দ্রা জাগরণে একটা মেয়েলি মিষ্টি সুগন্ধ পেয়েছিলাম! কপালে একটা ঠান্ডা স্পর্শ!
সাবধান বাণী ও বাসন্তী মাসি✒
কেটে গেছে প্রায় একমাস! জ্বরে ভুগে শরীরের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেছে! ডাক্তারের ওষুধের উপর কাটিয়ে কিছুই মুখে ভাল লাগেনা! যা খাই গলার কাছে তিতকুটে ফিলিংস! বাসন্তী মাসি চাপা গলায় একদিন মাকে কি বলছিল আড়াল থেকে দেখেছি....মায়ের তো হাসি আর থামতে চায় না! মাসিকে সামনের লনে একদিন একা পেয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ব্যাপারটা! মাসি আমাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে বিড়বিড় করে কিসের একটা মন্ত্র পড়তে লাগল! চোখেমুখে দেখলাম স্পষ্ট ভয়ের ছাপ! ঠিক তখনই আমাদের উঠোনের বেলগাছে প্রবল আলোড়ন শুরু হল! বাসন্তী মাসি আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপতে কাঁপতে ঘরের মধ্যে ঢুকে গেল! মাসিকে যে জিজ্ঞাসা করব ওটা কি হচ্ছে তার আগেই শুনি মাসি বিড়বিড় করে বলেই চলেছে - ওটা মানুষ নাই আছি বটেক! শুনে কিরকম যেন ভাল লাগলো না আমার! পরের দিন সকালে শুনি কোয়ার্টারের পিছনে বস্তির তরতাজা কতগুলি মুরগী উধাও! চেঁচামেচি হই হট্টগোল! কেউ কিছুই বুঝতে পারছেনা! আমার কিরকম যেন লাগল! আস্তে আস্তে পাঁচিলের উপর উঠে পড়লাম! নিঝুম দুপুর! গোটা বাড়িটা ঘুমিয়ে কাদা! বিকাশ কাকুর উঠোন খানি বিভীষিকাময় শূন্যতা নিয়ে পড়ে আছে!চোখ আটকে গেল কলতলার পাশে! অনেক খানি জায়গা জুড়ে চাপ চাপ রক্ত আর........ পালক.....রাশি রাশি পালক! আর অদ্ভুত ব্যাপার! মাথার উপরে বট গাছটিতে কতশত কাকে ঝটাপটি শুরু করে দিয়েছে কিন্তু ওই পাঁচিলটাকে তারা এড়িয়ে যাচ্ছে! এদিক ওদিক তাকিয়ে কোথাও অবন্তী কাকিমাকে দেখলাম না!
✒ এবং মায়াবিনী
আজ ভুত চতুর্দশী! ছোটবেলায় এই দিন টা আসলেই কেমন যেন রোমাঞ্চিত হয়ে পড়তাম মনে মনে! আধো আবছায়াতে প্রদীপের নিভু নিভু আলোয় বন্ধুদের সাথে হাউই ছাড়ার মজাই আলাদা ছিল! অবন্তী কাকিমা আমাদের বাড়ি আসা ইদানীং কমিয়ে দিয়েছে! আসলেও মায়ের সাথে দু একটা কথা বলেই চলে যায়! সারাদিনে আর মুখ দেখা যায় না! মাঝরাতে প্রায়ই পাশের লাগোয়া কোয়ার্টারের ঘর থেকে চাপা গোঙানির শব্দ শুনতে পেতাম! দিদিকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে গেলেই মুখ চিপে হেসে অন্যদিকে পালিয়ে যেত! কিছুই বুঝতাম না! আজ সকাল থেকে মায়ের কড়া শাসন! প্রশ্নমালার অঙ্ক গুলো না করলে বন্ধুদের সাথে বাজি ফাটানোর পারমিশন নেই! একমনে অঙ্ক করে যাচ্ছি! বাড়িতে কেউ নেই! বাবা অফিসে,দিদি প্রাইভেট পড়তে গেছে, মা একটু কেনাকাটা করতে গেছে পাড়ার এক বৌ কে নিয়ে! ফিরতে দেরি হবে! বাসন্তী মাসির হাতে আমাকে সঁপে দিয়ে গেছে! মাসি হয়ত উঠোনে বাসন ধুচ্ছিল আচমকা শাড়ির খসখসে আওয়াজে মুখটা তুলে তাকাতেই বুকটা শুকিয়ে গেল! দরজার কাছে অবন্তী কাকিমা দাঁড়িয়ে! অদ্ভুত মোহিনী লাগছে তাকে! পাতলা শিফন শাড়ির আবরণ ভেদ করে পুরো লাবণ্যময় শরীরটা আমার দৃষ্টিপটে! বুকের খাঁজ টা স্পষ্ট....... টের পেলাম পুরোনো অনুভুতিটা আবার জাগছে! বুকের ভিতরে হামানদিস্তা......
- তুমি কি করছ? কাঁচের মত আওয়াজ ভেসে আসে!
- আম....আম্মি.....বাক্য বেরোয় না!
- হি হি হি ছেলের কান্ড দেখো! ভয়েই মোলো! কেন ভয় আমাকে তোমার......বলতে বলতেই এগিয়ে এসে আমার পাশে বসে পড়ে! কি অদ্ভুত মদিরা! কি দুর্নিবার আঘ্রাণ! তাকিয়ে দেখি বুকের আঁচল খসে মাটিতে পড়েছে! দুটি পদ্মপাতার গহন অন্ধকার আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে!
- কি অঙ্ক করছ দেখি!.... আমার হাত থেকে খাতাটা নিয়ে নেয় সে! কি ঠান্ডা আঙুল গুলো! এক আঙুল তফাতে আমার থেকে অবন্তী কাকিমার লাল লিপস্টিক লাগানো ঠোঁট দুটো! স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ভিতর থেকে চেরা দুটো বেরিয়ে আসছে! কাকিমার বুক দুটো অস্বাভাবিক ওঠানামা করছে! আমি চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললাম! স্থান কাল পাত্র হারিয়ে ফেলেছি! নিষিদ্ধ আহ্বান শরীর মনকে অবশ করে দিচ্ছে! সেই সময় একটা চিল চিৎকার ভেসে এল কানে! চোখ খুলে দেখি বাসন্তী মাসি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে! হাতে কি একটা প্যাকেট! সেখান থেকে গুঁড়ো বের করে আমার সারা মাথায় মাখিয়ে দিচ্ছে! সাথে দুর্বোধ্য মন্ত্র উচ্চারণ, কাকিমা ছেঁকা খাওয়ার মত ছিটকে পড়ল দূরে! পড়েই একটা হুঙ্কার ছাড়ল মাসির দিকে! তারপর যেন ভেসে ভেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল! স্পষ্ট দেখলাম শাড়ির নীচে কোন পা নেই......! বট গাছটায় তখন ঝড় চলছে! বাড়িতে সবাই ফিরে এলে মাসি গম্ভীর মুখে বলে এ বাড়ির কাজ আর তাকে দিয়ে পোষাচ্ছে না! এবার তাকে ছুটি দেওয়া হোক! মা তো আকাশ থেকে পড়ে! এত দিনের বিশ্বস্ত লোক! হাতে পায়ে ধরে তাকে সেদিনের মত নিরস্ত করা হল! ঘটে যাওয়া বিভীষিকার সাক্ষী ছিলাম আমরা মাত্র দুই জন!
- তুমি কি করছ? কাঁচের মত আওয়াজ ভেসে আসে!
- আম....আম্মি.....বাক্য বেরোয় না!
- হি হি হি ছেলের কান্ড দেখো! ভয়েই মোলো! কেন ভয় আমাকে তোমার......বলতে বলতেই এগিয়ে এসে আমার পাশে বসে পড়ে! কি অদ্ভুত মদিরা! কি দুর্নিবার আঘ্রাণ! তাকিয়ে দেখি বুকের আঁচল খসে মাটিতে পড়েছে! দুটি পদ্মপাতার গহন অন্ধকার আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে!
- কি অঙ্ক করছ দেখি!.... আমার হাত থেকে খাতাটা নিয়ে নেয় সে! কি ঠান্ডা আঙুল গুলো! এক আঙুল তফাতে আমার থেকে অবন্তী কাকিমার লাল লিপস্টিক লাগানো ঠোঁট দুটো! স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ভিতর থেকে চেরা দুটো বেরিয়ে আসছে! কাকিমার বুক দুটো অস্বাভাবিক ওঠানামা করছে! আমি চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললাম! স্থান কাল পাত্র হারিয়ে ফেলেছি! নিষিদ্ধ আহ্বান শরীর মনকে অবশ করে দিচ্ছে! সেই সময় একটা চিল চিৎকার ভেসে এল কানে! চোখ খুলে দেখি বাসন্তী মাসি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে! হাতে কি একটা প্যাকেট! সেখান থেকে গুঁড়ো বের করে আমার সারা মাথায় মাখিয়ে দিচ্ছে! সাথে দুর্বোধ্য মন্ত্র উচ্চারণ, কাকিমা ছেঁকা খাওয়ার মত ছিটকে পড়ল দূরে! পড়েই একটা হুঙ্কার ছাড়ল মাসির দিকে! তারপর যেন ভেসে ভেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল! স্পষ্ট দেখলাম শাড়ির নীচে কোন পা নেই......! বট গাছটায় তখন ঝড় চলছে! বাড়িতে সবাই ফিরে এলে মাসি গম্ভীর মুখে বলে এ বাড়ির কাজ আর তাকে দিয়ে পোষাচ্ছে না! এবার তাকে ছুটি দেওয়া হোক! মা তো আকাশ থেকে পড়ে! এত দিনের বিশ্বস্ত লোক! হাতে পায়ে ধরে তাকে সেদিনের মত নিরস্ত করা হল! ঘটে যাওয়া বিভীষিকার সাক্ষী ছিলাম আমরা মাত্র দুই জন!
✒ শেষকথা
সে বছরই ভাই ফোঁটার পরদিন পাশের প্রতিবেশী উঠে অন্যত্র চলে গিয়েছিল! কোয়ার্টারে তালা পড়ল যথারীতি! বলা হয় নি যেটা, বাসন্তী মাসি কোথা থেকে এক পীর বাবাকে ধরে নিয়ে এসেছিল! সমস্ত কিছু দেখে শুনে উঠোনের নৈঋত কোণে বেলগাছের নীচে কয়েকটি শুকনো হাড় পুঁতে রেখে দিয়ে গেছিল! পীরবাবা বলেছিল এখানে খুব খারাপ হাওয়া লেগেছে তবে ডর না পেতে! হাওয়া যেমন এসেছিল তেমনই চলেও যাবে! সেদিনই রাতে অতবড় বেলগাছ টা বিনা নোটিশে কড়মড় করে পাঁচিল শুদ্ধু ভেঙে পড়ে! সে রাতেই অবন্তী কাকিমার মুখ দিয়ে কাঁচা রক্তের বমি বেরিয়েছিল শুধু! বিকাশ কাকু ডাক্তার বদ্যি করে একশা! ভাইফোঁটার পরেই তারা অন্যত্র চলে যায়! অনেক বছর পরে যখন আমি যুবক তখন এই খবরটা পাই বিকাশ কাকুকে রেল লাইনের উপর পাওয়া যায়! বডিটা উল্টো করে শোয়ানো ছিল! মুন্ডুটা পুরো ছিবড়ে করা! সারা শরীর রক্ত শূন্য! কাকিমা কে দেখেছিলাম এই খবর পাবার কয়েক মাসের মধ্যেই! একদিন রাত করে বাড়ি ফিরছি! শেষ ট্রেন ধরার জন্য ইতস্ততভাবে প্ল্যাটফর্মে ঘোরাঘুরি করছিলাম! এমন সময় চোখ গেল ওয়েটিং রুমের দিকে! হ্যাঁ কাকিমাই তো! কিরকম বিষণ্ণ চোখে মেলে চেয়ে আছে আমার দিকে! কাছে যেতেই নিষেধ করল সরু তর্জনী তুলে! তারপর রেণু রেণু হয়ে মিলিয়ে গেল ফুটফুটে কাকজ্যোৎস্নার আলোকে! শেষবারের মত দেখলাম কাকিমা কাঁদছে!
আজো অপেক্ষা করে বসে থাকি সেই অশুভ শক্তির......একটু নিষিদ্ধ স্পর্শ পাবার জন্য! জানি আমার এই কথাগুলো কেউ বিশ্বাস করবে না! কিন্তু অবন্তী জানে! কোনদিন হয়তো বা জ্যোৎস্না হয়ে নেমে আসবে আমার শরীরে!
সমাপ্ত
© সংরক্ষিত
কপি পেস্ট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ
কপি পেস্ট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ

No comments:
Post a Comment