জিঘাংসা
গল্পভাবনা ও প্লট নির্মাণ * অরিন্দম
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
অনুপ রোজকার মত বাইক টা বাগানের সাইডে স্ট্যান্ড করে নুড়ি বিছান পথ ধরে হাঁটা শুরু করল! সারাদিনের কোলাহল শেষে এই বিশাল বাগান বাড়িটা যেন এক বিষণ্ণ অস্তিত্ব নিয়ে অনুপ কে ডাকে! অন্ততঃ অনুপের তাই মনে হয়! শহরতলী থেকে অনেকদূরে এই নির্জন জায়গায় বাগানবাড়িখানা মূলতঃ স্ত্রী দীপান্বিতার পীড়াপীড়িতেই কেনা! দীপা ভিড়ভাট্টা পছন্দ করেনা! একটু নির্জন জায়গাই পছন্দ! মনে হতেই অনুপ মনে মনে গজগজ করে ওঠে! কি দরকার ছিল এখানে বাড়ি কেনার?? সাইট কন্সট্রাকশন এর কাজ দেখভাল করার জন্য তাকে পাক্কা ১০ কিলোমিটার বাইক চালিয়ে যেতে হয়! অনুপ একজন ইঞ্জিনিয়ার! শহরের দিকে একটি নির্মীয়মাণ হোটেলের প্ল্যানিং নকশা সেই তৈরি করেছে! ভাল অফার আছে! কিন্তু বাদ সাধে এই দূরত্ব! গাছগাছালির আঁধারে নুড়ি বিছান পথটা আরো আঁধার হয়ে আসে! ব্যালকনিতে উঠে সে বারান্দার লাইট টা জ্বালিয়ে দেয়! অন্ধকার বাগান বাড়িটার কিছুটা অংশ আচমকা আলোকিত হয়ে ওঠে! মাথার উপরে ঘন হয়ে থাকা গাছগাছালি থেকে বাসায় ফেরা পাখপাখালিদের চিৎকারে মুখর হয়ে উঠেছে প্রকৃতি! ক্লান্ত শরীর টা টেনে কোন মতে দরজার সামনে দাঁড়াতেই দরজা খুলে দেয় এক মাঝবয়সী মহিলা!
- দাদা আপনি এসে গেছেন? স্নানের জলের ব্যাবস্থা করছি। আপনি বিশ্রাম নিন!
- দীপা কে দেখছি না তো?
- বৌদি তো বিকেলবেলা তেই ঘুরতে বেরিয়েছে!
আচমকা অনুপের মাথার শিরাগুলো দপ করে জ্বলে ওঠে! এত করে পইপই বারণ করলুম তাও মেয়েছেলেটার বেড়ানো বন্ধ হলোনা? ফাঁকা ঘরগুলোয় অনুপের মাথার আগুন ক্রমে বাষ্প হয়ে মিলিয়ে যেতে থাকে! শূন্য বিছানার দিকে তাকাতেই দীপার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা অবিন্যস্ত সায়া ব্লাউজের দিকে তাকিয়ে বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে! দীপা কি অনুপ কে আর ভালবাসেনা? ভাবতেই টের পেল কানের পাশ দিয়ে এক ঠান্ডা ঘামের স্রোত কুলকুল করে নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে! একটা নষ্ট কল্পনা দীপাকে ঘিরে অনুপের মনে পাক খেতে থাকে! কার হাত তার দীপার শরীরে খেলে বেড়াচ্ছে? ভাবতেই বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে অনুপের!
- দাদা জল দিয়েছি!
আচমকা অনুপের চিন্তার জাল কেটে যায়!তাকিয়ে দেখে পরিচারিকা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হাতে তোয়ালে নিয়ে!
- আচ্ছা দিদি দীপা কি একাই বেরিয়েছে? জিজ্ঞেস করেই একটু বেকুব হয়ে গেল সে! এই নির্জন বাংলোয় তার স্ত্রীকে কেই বা সঙ্গ দেবে? তবে অবশ্য যদি দীপার সদিচ্ছা না থাকে! কিন্তু অবাক করে দিয়ে পরিচারিকা প্রত্যুত্তর দিল
- হ্যা দাদাবাবু বৌদিমণি এক দাদাবাবুর বাইকের পিছনে বসে গিয়েছেন আজ...!
আরেকটু হলেই পিছন দিকে পা হড়কে যাচ্ছিল অনুপের! মীরাদির মুখ থেকে এহেন সংবাদ প্রাপ্তির আশায় সে ছিলনা মোটেই! দীপার জীবনে অন্য পুরুষ??! অনুপের গলার কাছটা কেমন যেন তিতো তিতো লাগছে! দৌড়ে বেসিনের কাছে গিয়ে গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বমি করতে চাইল! কিছুই হলনা! কল টা খুলে অক্লেশে সে ট্যাংকের জলই গোগ্রাসে পান করতে লাগল! পরিচারিকা হাঁ হাঁ করে উঠল সবিস্ময়ে
- আরে দাদা কি করছেন? করছেন কি? নোংরা জল তো!
অনুপের কানে কিছু ঢুকছেনা! কিছু না! গোগ্রাসী গহ্বর তরল লেহন করে চলেছে এক পরম জিঘাংসায়! এই নোংরা জল তার কাছে কিছুই নয়! দীপার যে ভালবাসার মন্দির সে সাজিয়েছিল আজ সেটাই নোংরামির বাজারদরে বিকিয়ে গেছে! বাইক আরোহীর অবয়ব আস্তে আস্তে অনুপের মানসপটে পরিষ্কার হয়ে ধরা দিচ্ছে! পরিতোষ! ইউনিয়নের মাথা! ফাজিল ছোকরা! সাইটে অনেক বদনাম আছে তার! গেল মাসেই অনুপের সাথে প্রায় হাতাহাতি বেধে যাবার যোগাড় হয়েছিল! মজদুর দের বোনাস বৃদ্ধির দাবীটা উপরমহলকে জানাতে কসুর করেনি সে! এপর্যন্ত কোন গোল বাধার সম্ভাবনাই ছিলনা! বাদ সেধেছিল ছোকরার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ! বলে কি না মজদুর রা প্রাপ্য না পেলে মালকিন কে উঠিয়ে নিয়ে যাবে! আর ধরে রাখতে পারেনি অনুপ নিজেকে! বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার উপর! ভাগ্যিস বাকিরা দুজনকে ছাড়িয়ে দিয়েছিল! না হলে অনুপের হাতেই সেদিন....!
- দাদা! দাদা! ডাক্তার ডাকব??
- সম্বিৎ ফেরে অনুপের! খেয়াল করে বেসিনের নীচেই সে বসে পড়েছে! গলার কাছটা খুব জ্বলছে যেন! দীপা এখনো আসছে না কেন?...
- দাদা? ধরব? শরীর খারাপ লাগছে?
- ন...ন...ন্না! তুমি স্নানের জল বসাও!
- আচ্ছা দাদা!
পরিচারিকা চলে যেতে অনেক কষ্টে বেসিন ধরে উঠে বসে অনুপ! বুকের মধ্যে একটা ভারী পাথর চেপে বসেছে! সে কি দীপাকে কোনোদিন ও সুখ দিতে পারেনি? তার আবদার মেটায়নি? তাও কেন এরকম হল তার সাথে? বাইরে বাগানে গাছগাছালির উপর দিয়ে দীর্ঘশ্বাসের একটা ঝড় বয়ে যায় যেন! উত্তর কেউ দেয় না!
গল্পভাবনা ও প্লট নির্মাণ * অরিন্দম
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
অনুপ রোজকার মত বাইক টা বাগানের সাইডে স্ট্যান্ড করে নুড়ি বিছান পথ ধরে হাঁটা শুরু করল! সারাদিনের কোলাহল শেষে এই বিশাল বাগান বাড়িটা যেন এক বিষণ্ণ অস্তিত্ব নিয়ে অনুপ কে ডাকে! অন্ততঃ অনুপের তাই মনে হয়! শহরতলী থেকে অনেকদূরে এই নির্জন জায়গায় বাগানবাড়িখানা মূলতঃ স্ত্রী দীপান্বিতার পীড়াপীড়িতেই কেনা! দীপা ভিড়ভাট্টা পছন্দ করেনা! একটু নির্জন জায়গাই পছন্দ! মনে হতেই অনুপ মনে মনে গজগজ করে ওঠে! কি দরকার ছিল এখানে বাড়ি কেনার?? সাইট কন্সট্রাকশন এর কাজ দেখভাল করার জন্য তাকে পাক্কা ১০ কিলোমিটার বাইক চালিয়ে যেতে হয়! অনুপ একজন ইঞ্জিনিয়ার! শহরের দিকে একটি নির্মীয়মাণ হোটেলের প্ল্যানিং নকশা সেই তৈরি করেছে! ভাল অফার আছে! কিন্তু বাদ সাধে এই দূরত্ব! গাছগাছালির আঁধারে নুড়ি বিছান পথটা আরো আঁধার হয়ে আসে! ব্যালকনিতে উঠে সে বারান্দার লাইট টা জ্বালিয়ে দেয়! অন্ধকার বাগান বাড়িটার কিছুটা অংশ আচমকা আলোকিত হয়ে ওঠে! মাথার উপরে ঘন হয়ে থাকা গাছগাছালি থেকে বাসায় ফেরা পাখপাখালিদের চিৎকারে মুখর হয়ে উঠেছে প্রকৃতি! ক্লান্ত শরীর টা টেনে কোন মতে দরজার সামনে দাঁড়াতেই দরজা খুলে দেয় এক মাঝবয়সী মহিলা!
- দাদা আপনি এসে গেছেন? স্নানের জলের ব্যাবস্থা করছি। আপনি বিশ্রাম নিন!
- দীপা কে দেখছি না তো?
- বৌদি তো বিকেলবেলা তেই ঘুরতে বেরিয়েছে!
আচমকা অনুপের মাথার শিরাগুলো দপ করে জ্বলে ওঠে! এত করে পইপই বারণ করলুম তাও মেয়েছেলেটার বেড়ানো বন্ধ হলোনা? ফাঁকা ঘরগুলোয় অনুপের মাথার আগুন ক্রমে বাষ্প হয়ে মিলিয়ে যেতে থাকে! শূন্য বিছানার দিকে তাকাতেই দীপার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা অবিন্যস্ত সায়া ব্লাউজের দিকে তাকিয়ে বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে! দীপা কি অনুপ কে আর ভালবাসেনা? ভাবতেই টের পেল কানের পাশ দিয়ে এক ঠান্ডা ঘামের স্রোত কুলকুল করে নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে! একটা নষ্ট কল্পনা দীপাকে ঘিরে অনুপের মনে পাক খেতে থাকে! কার হাত তার দীপার শরীরে খেলে বেড়াচ্ছে? ভাবতেই বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে অনুপের!
- দাদা জল দিয়েছি!
আচমকা অনুপের চিন্তার জাল কেটে যায়!তাকিয়ে দেখে পরিচারিকা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হাতে তোয়ালে নিয়ে!
- আচ্ছা দিদি দীপা কি একাই বেরিয়েছে? জিজ্ঞেস করেই একটু বেকুব হয়ে গেল সে! এই নির্জন বাংলোয় তার স্ত্রীকে কেই বা সঙ্গ দেবে? তবে অবশ্য যদি দীপার সদিচ্ছা না থাকে! কিন্তু অবাক করে দিয়ে পরিচারিকা প্রত্যুত্তর দিল
- হ্যা দাদাবাবু বৌদিমণি এক দাদাবাবুর বাইকের পিছনে বসে গিয়েছেন আজ...!
আরেকটু হলেই পিছন দিকে পা হড়কে যাচ্ছিল অনুপের! মীরাদির মুখ থেকে এহেন সংবাদ প্রাপ্তির আশায় সে ছিলনা মোটেই! দীপার জীবনে অন্য পুরুষ??! অনুপের গলার কাছটা কেমন যেন তিতো তিতো লাগছে! দৌড়ে বেসিনের কাছে গিয়ে গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বমি করতে চাইল! কিছুই হলনা! কল টা খুলে অক্লেশে সে ট্যাংকের জলই গোগ্রাসে পান করতে লাগল! পরিচারিকা হাঁ হাঁ করে উঠল সবিস্ময়ে
- আরে দাদা কি করছেন? করছেন কি? নোংরা জল তো!
অনুপের কানে কিছু ঢুকছেনা! কিছু না! গোগ্রাসী গহ্বর তরল লেহন করে চলেছে এক পরম জিঘাংসায়! এই নোংরা জল তার কাছে কিছুই নয়! দীপার যে ভালবাসার মন্দির সে সাজিয়েছিল আজ সেটাই নোংরামির বাজারদরে বিকিয়ে গেছে! বাইক আরোহীর অবয়ব আস্তে আস্তে অনুপের মানসপটে পরিষ্কার হয়ে ধরা দিচ্ছে! পরিতোষ! ইউনিয়নের মাথা! ফাজিল ছোকরা! সাইটে অনেক বদনাম আছে তার! গেল মাসেই অনুপের সাথে প্রায় হাতাহাতি বেধে যাবার যোগাড় হয়েছিল! মজদুর দের বোনাস বৃদ্ধির দাবীটা উপরমহলকে জানাতে কসুর করেনি সে! এপর্যন্ত কোন গোল বাধার সম্ভাবনাই ছিলনা! বাদ সেধেছিল ছোকরার উচ্ছৃঙ্খল আচরণ! বলে কি না মজদুর রা প্রাপ্য না পেলে মালকিন কে উঠিয়ে নিয়ে যাবে! আর ধরে রাখতে পারেনি অনুপ নিজেকে! বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার উপর! ভাগ্যিস বাকিরা দুজনকে ছাড়িয়ে দিয়েছিল! না হলে অনুপের হাতেই সেদিন....!
- দাদা! দাদা! ডাক্তার ডাকব??
- সম্বিৎ ফেরে অনুপের! খেয়াল করে বেসিনের নীচেই সে বসে পড়েছে! গলার কাছটা খুব জ্বলছে যেন! দীপা এখনো আসছে না কেন?...
- দাদা? ধরব? শরীর খারাপ লাগছে?
- ন...ন...ন্না! তুমি স্নানের জল বসাও!
- আচ্ছা দাদা!
পরিচারিকা চলে যেতে অনেক কষ্টে বেসিন ধরে উঠে বসে অনুপ! বুকের মধ্যে একটা ভারী পাথর চেপে বসেছে! সে কি দীপাকে কোনোদিন ও সুখ দিতে পারেনি? তার আবদার মেটায়নি? তাও কেন এরকম হল তার সাথে? বাইরে বাগানে গাছগাছালির উপর দিয়ে দীর্ঘশ্বাসের একটা ঝড় বয়ে যায় যেন! উত্তর কেউ দেয় না!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
স্নানের পর অনুপ কে গোটা রাজ্যের ক্লান্তি যেন গ্রাস করল! পরিচারিকা হাজার ডেকেও সাড়া পেলনা অনুপের! অনুপ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন শূন্য বিছানায়......গভীর ঘুমের মধ্যে তলিয়ে যেতে যেতে সে দেখল তার সামনে এক বিস্তীর্ণ পোড়ো জমি যেন হাহাকার রবে অনুপ কে ডাকছে! অনুপ মন্ত্র মুগ্ধের মত সেই পোড়ো জমি দিয়ে খানিকদূর এগিয়ে দেখল একটা পোড়ো মাঠের একটা কোণায় একটা পাতকুয়ো র ধার ঘেঁষে একটা মহিলা ইনিয়েবিনিয়ে কেঁদেই চলেছে! অনুপ ফিল করল আচমকা তার চারপাশটা ঠাণ্ডা হতে শুরু করেছে! গা টা ছ্যাঁত করে ওঠে তার! কে ওই মহিলা? এই নির্জন জায়গাতে এলেনই বা কিভাবে? সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে মহিলার দিকে কয়েক কদম এগিয়ে জিজ্ঞেস করল অনুপ
- আপনি কে? এই জায়গায় কি করছেন?
একটা অদ্ভুত ফ্যাঁসফেঁসে গলায় জবাব এল - তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম!
একটা কারেন্ট খেলে গেল অনুপের শরীরে! টের পেল সে ঘামছে! এই মহিলা তার পরিচিত! না হলে তুমি করে বলছে কেন?
- কে তুমি? জিজ্ঞেস করতে গিয়ে অনুপের গলাটা একটু কেঁপে গেল যেন!
- আমি?.....চেনোনা আমাকে??? জানোনা???
অনুপ খেয়াল করল কুয়াশা মাঠের মধ্যে আস্তে আস্তে তাকে ঘিরে ধরছে চারদিক থেকে! দু এক ফোঁটা হিম ফলকের মত বৃষ্টি নেমে এল আকাশ থেকে! হঠাৎ অনুপের খেয়াল হল মহিলাটি সটান তার দিকে ঘুরে বসেছে! ঠিক এই সময়েই আকাশ থেকে ধারে কাছে কোথাও বাজ পড়ল! সেই আলোতে পরিষ্কার দেখল দীপা তার সামনে বসে!! আরো ভয়াবহ জিনিষ সে আবিষ্কার করল দীপার বাম চোখ টা কে যেন খুবলে নিয়েছে! অক্ষি কোটরের সেই নিকষ কালো অন্ধকার অনুপ কে গ্রাস করতে লাগল! সাথে একটা ফ্যাঁসফেঁসে গলার স্বর শুনতে পেল
- আমার পেটে সন্তান এসেছে অনুপ! তুমি কি আপন করে নেবে না? বলো....বলো......বলো...!!!
চিৎকার করে অনুপ ধড়মড় করে উঠে বসতেই খেয়াল করল সে বিছানার উপরেই বসে আছে! সারা শরীর ঘামে ভিজে জবজব করছে!
আর সারা বাড়ি একটা অদ্ভুত সুগন্ধে মম করছে! ভালো করে চোখ কচলে তাকিয়ে দেখে সামনে দীপা হাসিমুখে শাড়ি খুলছে! অনুপ কে ভুতের মত বসে থাকতে দেখে বলে উঠল
- কি গো? চেঁচালে কেন? স্বপ্ন দেখছিলে নাকি? বলতে বলতে শাড়ি আধখোলা অবস্থাতেই অনুপের পাশে বসে পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল দীপা! অনুপ মুহুর্তে ভুলে গেল তার রাগ ক্রোধ জিঘাংসা! দীপার মেদহীন ফর্সা শরীর টার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল এই মেয়েকে একদিন সমস্ত কিছু সঁপে দিয়েছিল বিনা দ্বিধায়! এই বাংলো বাড়িতে আসার পরে ভালই কাটছিল দুজনের! মাঝে মাঝে দু একবার নিঃসঙ্গ থাকার যন্ত্রণা ব্যক্ত করত দীপা অনুপের কাছে! অনুপ ভালোবাসার উষ্ণতায় সবকিছু ভুলিয়ে দিত দীপার! বাদ সাধল পরিতোষ এর উপস্থিতি! দীপাকে সময় দিতে না পারার দুর্বলতার প্রাচীরে ছিদ্র করে ঢুকে পড়েছে কালসাপ! সে কথা মনে হতেই অনুপের আবার মাথায় আগুন জ্বলে উঠল!
- কোথায় গিয়েছিলে আজ?
- এই একটু বাইরে গিয়েছিলাম ঘুরতে।
- কেন?
- মানে? কেন মানে? কি বলতে চাইছ?
- কি বলতে চাইছি সেটা তুমি ও ভাল করে জান! পরিতোষের বাইকে করে কোথায় গিয়েছিলে?
- ওহ! তোমাকে তো বলাই হয়নি! আজ পরিতোষ এসেছিল! এমনিতেই কম আসে! তোমার খোঁজ করছিল! আমিও তখন বেরোচ্ছিলাম! আমাকে বলল লাইব্রেরী তে ড্রপ করে দেবে! রাজি হয়ে গেলাম!
- গল্প তো ভালই পার দেখছি! এই চাঁদপানা বদন নিয়ে বাইকে করে কোথায় গেছ তা বুঝি আর জানিনে?
- অনুপ!! কি বলছ কি তুমি?
- হ্যা হ্যা! ঠিকই বলছি! জানোয়ার টাকে আজ সব দিয়ে এসেছ তুমি! আমার সামনে সতীপনা!
- প্লিজ চুপ করো!
- কেন চুপ করব? কেন? আমি সারা দিন খেটে মরি আর ইনি সম্ভোগ করে বেড়াচ্ছেন সারাদিন! যেমন বাপ তার তেমনি মেয়ে!
- খবর্দার বাপ তুলবে না বলছি! ইতর একটা! সারাদিন বাড়ি থাকেনা! আমার দম বন্ধ হয়ে আসে এই চার দেওয়ালের ভিতর! তাই একটু লাইব্রেরি তে গিয়ে বসি! বলতে বলতে দীপা অঝোরে কেঁদে ফেলে! ফুলের মত শরীর টা কাঁপতে থাকে কান্নার দমকে!
অনুপের সম্বিৎ ফেরে! রাগের মাথায় তার স্ত্রী কে নিয়ে এতটা নষ্ট কল্পনা করতে তার বাধল না? সামনে পড়ে থাকা কান্নার দমকে ফুলে ফুলে ওঠা শরীর টা কে দেখে খুব মায়া হল অনুপের! ভাবল মাথায় হাত রাখি.....কিন্তু বড্ড দেরী হয়ে গেছে! দীপাকে রাগের মাথায় যে বাক্যবাণ সে ছুঁড়েছে তা আর কোনোদিন ও ফেরানো যাবে না! তা দীপার নরম বুককে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে একপ্রকার! হঠাৎ খুব ঘেন্না হল অনুপের নিজের উপর! একমূহুর্ত ও সেখানে দাঁড়াল না সে! নিমেষে ঘরের বাইরে বেরিয়ে বাগানের মধ্যে এসে দাঁড়াল সে! বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল! বাইকে বসে স্টার্ট দিল সে! বাইকটা চোখের আড়াল হতেই পিছনে দীপা উন্মাদিনী র মত ছুটে এল!
- অনুপ যেওনা প্লিজ! কোথায় যাচ্ছ! ফিরে এস! আমি আর কোথাও যাবনা! অ...নু....উ...উ...প!
উন্মাদিনীর সেই আর্তনাদ নির্জন বাড়িটির আনাচেকানাচে প্রতিধ্বনি তুলে মিলিয়ে গেল! কেউ ফিরে এল না!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
- আপনি কে? এই জায়গায় কি করছেন?
একটা অদ্ভুত ফ্যাঁসফেঁসে গলায় জবাব এল - তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম!
একটা কারেন্ট খেলে গেল অনুপের শরীরে! টের পেল সে ঘামছে! এই মহিলা তার পরিচিত! না হলে তুমি করে বলছে কেন?
- কে তুমি? জিজ্ঞেস করতে গিয়ে অনুপের গলাটা একটু কেঁপে গেল যেন!
- আমি?.....চেনোনা আমাকে??? জানোনা???
অনুপ খেয়াল করল কুয়াশা মাঠের মধ্যে আস্তে আস্তে তাকে ঘিরে ধরছে চারদিক থেকে! দু এক ফোঁটা হিম ফলকের মত বৃষ্টি নেমে এল আকাশ থেকে! হঠাৎ অনুপের খেয়াল হল মহিলাটি সটান তার দিকে ঘুরে বসেছে! ঠিক এই সময়েই আকাশ থেকে ধারে কাছে কোথাও বাজ পড়ল! সেই আলোতে পরিষ্কার দেখল দীপা তার সামনে বসে!! আরো ভয়াবহ জিনিষ সে আবিষ্কার করল দীপার বাম চোখ টা কে যেন খুবলে নিয়েছে! অক্ষি কোটরের সেই নিকষ কালো অন্ধকার অনুপ কে গ্রাস করতে লাগল! সাথে একটা ফ্যাঁসফেঁসে গলার স্বর শুনতে পেল
- আমার পেটে সন্তান এসেছে অনুপ! তুমি কি আপন করে নেবে না? বলো....বলো......বলো...!!!
চিৎকার করে অনুপ ধড়মড় করে উঠে বসতেই খেয়াল করল সে বিছানার উপরেই বসে আছে! সারা শরীর ঘামে ভিজে জবজব করছে!
আর সারা বাড়ি একটা অদ্ভুত সুগন্ধে মম করছে! ভালো করে চোখ কচলে তাকিয়ে দেখে সামনে দীপা হাসিমুখে শাড়ি খুলছে! অনুপ কে ভুতের মত বসে থাকতে দেখে বলে উঠল
- কি গো? চেঁচালে কেন? স্বপ্ন দেখছিলে নাকি? বলতে বলতে শাড়ি আধখোলা অবস্থাতেই অনুপের পাশে বসে পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল দীপা! অনুপ মুহুর্তে ভুলে গেল তার রাগ ক্রোধ জিঘাংসা! দীপার মেদহীন ফর্সা শরীর টার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল এই মেয়েকে একদিন সমস্ত কিছু সঁপে দিয়েছিল বিনা দ্বিধায়! এই বাংলো বাড়িতে আসার পরে ভালই কাটছিল দুজনের! মাঝে মাঝে দু একবার নিঃসঙ্গ থাকার যন্ত্রণা ব্যক্ত করত দীপা অনুপের কাছে! অনুপ ভালোবাসার উষ্ণতায় সবকিছু ভুলিয়ে দিত দীপার! বাদ সাধল পরিতোষ এর উপস্থিতি! দীপাকে সময় দিতে না পারার দুর্বলতার প্রাচীরে ছিদ্র করে ঢুকে পড়েছে কালসাপ! সে কথা মনে হতেই অনুপের আবার মাথায় আগুন জ্বলে উঠল!
- কোথায় গিয়েছিলে আজ?
- এই একটু বাইরে গিয়েছিলাম ঘুরতে।
- কেন?
- মানে? কেন মানে? কি বলতে চাইছ?
- কি বলতে চাইছি সেটা তুমি ও ভাল করে জান! পরিতোষের বাইকে করে কোথায় গিয়েছিলে?
- ওহ! তোমাকে তো বলাই হয়নি! আজ পরিতোষ এসেছিল! এমনিতেই কম আসে! তোমার খোঁজ করছিল! আমিও তখন বেরোচ্ছিলাম! আমাকে বলল লাইব্রেরী তে ড্রপ করে দেবে! রাজি হয়ে গেলাম!
- গল্প তো ভালই পার দেখছি! এই চাঁদপানা বদন নিয়ে বাইকে করে কোথায় গেছ তা বুঝি আর জানিনে?
- অনুপ!! কি বলছ কি তুমি?
- হ্যা হ্যা! ঠিকই বলছি! জানোয়ার টাকে আজ সব দিয়ে এসেছ তুমি! আমার সামনে সতীপনা!
- প্লিজ চুপ করো!
- কেন চুপ করব? কেন? আমি সারা দিন খেটে মরি আর ইনি সম্ভোগ করে বেড়াচ্ছেন সারাদিন! যেমন বাপ তার তেমনি মেয়ে!
- খবর্দার বাপ তুলবে না বলছি! ইতর একটা! সারাদিন বাড়ি থাকেনা! আমার দম বন্ধ হয়ে আসে এই চার দেওয়ালের ভিতর! তাই একটু লাইব্রেরি তে গিয়ে বসি! বলতে বলতে দীপা অঝোরে কেঁদে ফেলে! ফুলের মত শরীর টা কাঁপতে থাকে কান্নার দমকে!
অনুপের সম্বিৎ ফেরে! রাগের মাথায় তার স্ত্রী কে নিয়ে এতটা নষ্ট কল্পনা করতে তার বাধল না? সামনে পড়ে থাকা কান্নার দমকে ফুলে ফুলে ওঠা শরীর টা কে দেখে খুব মায়া হল অনুপের! ভাবল মাথায় হাত রাখি.....কিন্তু বড্ড দেরী হয়ে গেছে! দীপাকে রাগের মাথায় যে বাক্যবাণ সে ছুঁড়েছে তা আর কোনোদিন ও ফেরানো যাবে না! তা দীপার নরম বুককে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে একপ্রকার! হঠাৎ খুব ঘেন্না হল অনুপের নিজের উপর! একমূহুর্ত ও সেখানে দাঁড়াল না সে! নিমেষে ঘরের বাইরে বেরিয়ে বাগানের মধ্যে এসে দাঁড়াল সে! বুক ভরে নিঃশ্বাস নিল! বাইকে বসে স্টার্ট দিল সে! বাইকটা চোখের আড়াল হতেই পিছনে দীপা উন্মাদিনী র মত ছুটে এল!
- অনুপ যেওনা প্লিজ! কোথায় যাচ্ছ! ফিরে এস! আমি আর কোথাও যাবনা! অ...নু....উ...উ...প!
উন্মাদিনীর সেই আর্তনাদ নির্জন বাড়িটির আনাচেকানাচে প্রতিধ্বনি তুলে মিলিয়ে গেল! কেউ ফিরে এল না!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
বাইকের স্পিডোমিটারে কাঁটা থরথর করে কাঁপছে ৯০ আর ১০০ এর মাঝে!অন্ধকারের বুক চিরে এক ব্যর্থপ্রাণ ধুলো উড়িয়ে এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে! সওয়ারির মাথায় একটা নাম শুধু প্রতিধ্বনি তুলছে বার বার! পরিতোষ!!.... হ্যা এই কালসাপ টাই তার জীবনকে ছারখার করে দিয়েছে! তাকে জীবন থেকে সরিয়ে দিলে কেমন হয়? কেউ জানতে পারবে না! সুকৌশলে সারতে হবে কাজ টা! অনুপের মুখে একটা পৈশাচিক হাসি খেলে গেল! জিঘাংসু চোখে তার আলোর ঝিলিক মারল! দীপার জন্য এটুকু কাজ সে করতে পারবে না??!
অনুপ খেয়াল করল না তার বাইকের সামনে আচমকা এক ডিভাইডার এসে দেখা দিল! অতি দ্রুত গতির এই যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা অনুপের সাধ্যের বাইরে ছিল! ডিভাইডারের ধাক্কায় মুহুর্তের মধ্যে অনুপের শরীর টা মাটি থেকে দশ ফুট উচুতে উঠে গেল! যখন কালো পিচের রাস্তায় বিহ্বল শরীরটা আছড়ে পড়ল তখন অনুপ তার রক্ত ঝরা ঝাপসা চোখে দেখতে পেল উল্টো দিক থেকে ছুটে আসছে চার চাকার মৃত্যুদূত একটি লরি! কেন জানিনা অনুপের খুব হাসি পেল! শরীর টা হাজার চেষ্টা করেও সরাতে পারছে না সে! আটকে গিয়েছে যেন পিচের রাস্তায়! রক্তমাখা দাঁত গুলো বের করে পিশাচের মত হেসে উঠল! নিমেষের মধ্যে লরির চাকা তার শরীর থেকে ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন করে বেরিয়ে
মিশে গেল অন্ধকারের অতলে! হাতটি পাশের ঝোপের মধ্যে ছিটকে পড়ে কাঁপতে লাগল! আশ্চর্য! অনুপের কোন যন্ত্রণা অনুভূত হল না! শুধু তার ডান দিকটা হালকা বোধ হতে লাগল! চোখ দুটো জড়িয়ে আসতে লাগল ক্লান্তির ঘুমে! আহ! কি শান্তি! মাথার উপরে অগণিত নক্ষত্র গুলি নিঃসীম আকাশে মিটমিট করে জানান দিতে লাগল!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
অনুপ খেয়াল করল না তার বাইকের সামনে আচমকা এক ডিভাইডার এসে দেখা দিল! অতি দ্রুত গতির এই যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা অনুপের সাধ্যের বাইরে ছিল! ডিভাইডারের ধাক্কায় মুহুর্তের মধ্যে অনুপের শরীর টা মাটি থেকে দশ ফুট উচুতে উঠে গেল! যখন কালো পিচের রাস্তায় বিহ্বল শরীরটা আছড়ে পড়ল তখন অনুপ তার রক্ত ঝরা ঝাপসা চোখে দেখতে পেল উল্টো দিক থেকে ছুটে আসছে চার চাকার মৃত্যুদূত একটি লরি! কেন জানিনা অনুপের খুব হাসি পেল! শরীর টা হাজার চেষ্টা করেও সরাতে পারছে না সে! আটকে গিয়েছে যেন পিচের রাস্তায়! রক্তমাখা দাঁত গুলো বের করে পিশাচের মত হেসে উঠল! নিমেষের মধ্যে লরির চাকা তার শরীর থেকে ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন করে বেরিয়ে
মিশে গেল অন্ধকারের অতলে! হাতটি পাশের ঝোপের মধ্যে ছিটকে পড়ে কাঁপতে লাগল! আশ্চর্য! অনুপের কোন যন্ত্রণা অনুভূত হল না! শুধু তার ডান দিকটা হালকা বোধ হতে লাগল! চোখ দুটো জড়িয়ে আসতে লাগল ক্লান্তির ঘুমে! আহ! কি শান্তি! মাথার উপরে অগণিত নক্ষত্র গুলি নিঃসীম আকাশে মিটমিট করে জানান দিতে লাগল!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
চোখ দুটো অসহ্য ভারী লাগছে অনুপের! মনে হচ্ছে আরো কিছুক্ষণ শুয়ে থাকতে পারলে ভাল হত! কিন্তু একটা তীব্র আলো কোথা থেকে এসে সরাসরি চোখে লাগছে অনুপের! সাথে কানে আসছে রমণী কন্ঠের অবিশ্রান্ত বিলাপ! চোখ দুটো একটু মেলে ধরতেই দেখতে পেল মাথার উপর বিশাল দুটো লাইট তার দিকে ঝুঁকে আছে! কয়েকজোড়া উৎসুক চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে! তার মধ্যে একজোড়া চোখ জলে ভেজা..! কাঁদতে কাঁদতে চোখ দুটি লাল বর্ণ ধারণ করেছে! সে চোখ দুটি তার খুব চেনা! তার স্ত্রী দীপার!! দুধসাদা অপারেশন বেডে শুয়ে আছে অনুপ! ডানদিকটা ব্যান্ডেজ দিয়ে মোড়া! লাল ছোপ লেগে রয়েছে সেখানে! আশ্চর্য ব্যাপার, অনুপ ডানদিকে কোন বেদনা অনুভব করছে না এখন! বরং কেমন এক হালকা স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতে পারছে! আচমকা দীপা হাউমাউ করে অনুপের শুয়ে থাকা শরীর টার উপর আছড়ে পড়ল!
- ওগো! কেন গেলে তুমি? আমাকে রেখে কেন এভাবে বেরিয়ে গেলে তুমি? এত বড় শাস্তি??......এত বড়...??? আর কথা বলতে পারেনা সে! শরীর টা ফুলে ফুলে উঠতে থাকে কান্নার দমকে! অনুপ আজ বাক্যহারা! স্তব্ধ হয়ে ভাবতে থাকে এই সেই দীপা?? তার জন্যও কেউ এই দুনিয়ায় উতলা হতে পারে! মেয়েটাকে দেখে কেন জানিনা অনুপের মায়া হল খুব! ইস! এভাবে কাঁদছে কেন দীপা? ধীরেধীরে বাঁ হাত খানি দীপার মাথায় রেখে পরম স্নেহে বলে উঠল
- কাঁদছ কেন দীপা? আমার ডানহাত হারিয়ে যায় নি গো! তুমিই আমার ডানহাত! আমার সাহারা!
- অনু.....অনু....!! দীপা আর কিছু বলতে পারে না! এক তীব্র আবেগে অনুপকে আরো জোরে আঁকড়ে ধরে স্থানকাল ভুলে! ঠিক সেই সময়ে দরজার কাছ থেকে একটা আওয়াজ ভেসে আসে-
- অনুপদা এখন কেমন বোধ করছ?
- কে? কে ওখানে! অনুপ ঝাপসা দেখে!
- আমি! পরিতোষ!!
নিমেষে অনুপের কাছে দুনিয়াটা মরুভূমি হয়ে গেল! বুকের কাছে জাপটে থাকা দীপাকে চুলের মুঠি ধরে সরিয়ে দিয়ে সাপের মত হিস হিস করে উঠল
- হারামজাদি আবার পুরোনো খেলা শুরু করেছিস? আমি কিছু বুঝিনা ভেবেছিস? পরিতোষ এখানে কেন? কি করছে ও এখানে?
- তুমি ভুল বুঝছ অনুপ! অ্যাক্সিডেন্ট স্পট থেকে ওই তোমাকে এখানে নিয়ে আসে! নাহলে বাঁচান যেত না!
- চুপ কর নৌটঙ্কি! আমাকে আর ভুল বোঝাতে হবে না তোর! তোর জীবন থেকে আমি সরে গেলেই তোর সুবিধা হবে তাই না?
- অনুপ! প্লিজ বন্ধ করো এসব! আমি আর নিতে পারছি না এসব!
থরথর করে কাঁপতে থাকে দীপার শরীর টা!
এইসময় পরিতোষ অনুপের খাটের পাশে এসে দাঁড়ায়! অনুপের বুকে হাত রেখে একটু গম্ভীর স্বরে বলে চলে
- অনুপ দা আপনি যেটা ভাবছেন সেটা একদম ই নয়! মানছি প্রোফেশনাল আমরা ভাল সম্পর্ক মেনে চলিনা, সেদিন রাগের মাথায় আপনাকে কি বলেছিলাম সেটাকে সত্যি ধরে নিলেন? আপনার ওয়াইফকে আমি শ্রদ্ধা করি! আমার তরফ থেকে আপনার কোন ক্ষতি হোক আমি চাইনা! বৌদি খুব ভাল.....
কথা শেষ করতে দেয় না অনুপ! বাঘের মত গর্জন করে ওঠে
- আমার বউ এর আর কি কি ভাল দেখেছিস? হ্যাঁ? বল? বল হতচ্ছাড়া!
দীপা আর সহ্য করতে পারেনা! সপাটে অনুপের গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়! হসপিটালের নৈঃশব্দ্য ভঙ্গ হয় খানিকখনের জন্য! পরিতোষ মাথা নীচু করে বেরিয়ে যাবার আগে শুধু অস্ফুটে বলে যায় - বৌদি আমি আসছি! দাদার যদি কিছু দরকার লাগে ডেকে পাঠিও!
পরিতোষ চলে যাবার পর ঘরটি আবার নৈঃশব্দে ডুবে যায়! দীপা পলকহীন চোখে অনুপের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে! তার চোখের জল শুকিয়ে গেছে! ফর্সা গালদুটি বেয়ে গলে নামছে সিঁথিতে লাগান ঘর্মাক্ত সিঁদুরের স্রোত! বুক দুটো হাপরের মতন ওঠানামা করছে! নাঃ! এ লোকের সাথে আর একমূহুর্ত থাকা চলবে না! এ তার অনুপ নয়! কোন রাক্ষস ভর করেছে তাকে! নাহলে এভাবে তার বিশ্বাসের মন্দির টা ভেঙে চুরমার করে দিতে পারত?
- বাড়ি চল দীপা! আচমকা এক বহু পরিচিত কন্ঠস্বরে দীপার চিন্তাজাল ছিন্ন হয়ে যায়! তাকিয়ে দেখে অনুপ শান্ত ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে! বুকটা উথালপাতাল করে ওঠে দীপার! আজ ঘর ভর্তি লোকের সামনে এভাবে তার স্বামীর গায়ে হাত তুলতে হল??
আস্তে করে স্বামীর বাঁহাত নিজের কাঁধের উপর নিয়ে দীপা বলে উঠল
- চল! বাড়ি চল! আমি খুব একা হয়ে যাচ্ছি অনুপ! বাড়ি চল!
একটা পৈশাচিক হাসির ঝিলিক খেলে গেল অনুপের মুখে! যেটা দীপার নজরে এলোনা সম্ভবতঃ!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
- ওগো! কেন গেলে তুমি? আমাকে রেখে কেন এভাবে বেরিয়ে গেলে তুমি? এত বড় শাস্তি??......এত বড়...??? আর কথা বলতে পারেনা সে! শরীর টা ফুলে ফুলে উঠতে থাকে কান্নার দমকে! অনুপ আজ বাক্যহারা! স্তব্ধ হয়ে ভাবতে থাকে এই সেই দীপা?? তার জন্যও কেউ এই দুনিয়ায় উতলা হতে পারে! মেয়েটাকে দেখে কেন জানিনা অনুপের মায়া হল খুব! ইস! এভাবে কাঁদছে কেন দীপা? ধীরেধীরে বাঁ হাত খানি দীপার মাথায় রেখে পরম স্নেহে বলে উঠল
- কাঁদছ কেন দীপা? আমার ডানহাত হারিয়ে যায় নি গো! তুমিই আমার ডানহাত! আমার সাহারা!
- অনু.....অনু....!! দীপা আর কিছু বলতে পারে না! এক তীব্র আবেগে অনুপকে আরো জোরে আঁকড়ে ধরে স্থানকাল ভুলে! ঠিক সেই সময়ে দরজার কাছ থেকে একটা আওয়াজ ভেসে আসে-
- অনুপদা এখন কেমন বোধ করছ?
- কে? কে ওখানে! অনুপ ঝাপসা দেখে!
- আমি! পরিতোষ!!
নিমেষে অনুপের কাছে দুনিয়াটা মরুভূমি হয়ে গেল! বুকের কাছে জাপটে থাকা দীপাকে চুলের মুঠি ধরে সরিয়ে দিয়ে সাপের মত হিস হিস করে উঠল
- হারামজাদি আবার পুরোনো খেলা শুরু করেছিস? আমি কিছু বুঝিনা ভেবেছিস? পরিতোষ এখানে কেন? কি করছে ও এখানে?
- তুমি ভুল বুঝছ অনুপ! অ্যাক্সিডেন্ট স্পট থেকে ওই তোমাকে এখানে নিয়ে আসে! নাহলে বাঁচান যেত না!
- চুপ কর নৌটঙ্কি! আমাকে আর ভুল বোঝাতে হবে না তোর! তোর জীবন থেকে আমি সরে গেলেই তোর সুবিধা হবে তাই না?
- অনুপ! প্লিজ বন্ধ করো এসব! আমি আর নিতে পারছি না এসব!
থরথর করে কাঁপতে থাকে দীপার শরীর টা!
এইসময় পরিতোষ অনুপের খাটের পাশে এসে দাঁড়ায়! অনুপের বুকে হাত রেখে একটু গম্ভীর স্বরে বলে চলে
- অনুপ দা আপনি যেটা ভাবছেন সেটা একদম ই নয়! মানছি প্রোফেশনাল আমরা ভাল সম্পর্ক মেনে চলিনা, সেদিন রাগের মাথায় আপনাকে কি বলেছিলাম সেটাকে সত্যি ধরে নিলেন? আপনার ওয়াইফকে আমি শ্রদ্ধা করি! আমার তরফ থেকে আপনার কোন ক্ষতি হোক আমি চাইনা! বৌদি খুব ভাল.....
কথা শেষ করতে দেয় না অনুপ! বাঘের মত গর্জন করে ওঠে
- আমার বউ এর আর কি কি ভাল দেখেছিস? হ্যাঁ? বল? বল হতচ্ছাড়া!
দীপা আর সহ্য করতে পারেনা! সপাটে অনুপের গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়! হসপিটালের নৈঃশব্দ্য ভঙ্গ হয় খানিকখনের জন্য! পরিতোষ মাথা নীচু করে বেরিয়ে যাবার আগে শুধু অস্ফুটে বলে যায় - বৌদি আমি আসছি! দাদার যদি কিছু দরকার লাগে ডেকে পাঠিও!
পরিতোষ চলে যাবার পর ঘরটি আবার নৈঃশব্দে ডুবে যায়! দীপা পলকহীন চোখে অনুপের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে! তার চোখের জল শুকিয়ে গেছে! ফর্সা গালদুটি বেয়ে গলে নামছে সিঁথিতে লাগান ঘর্মাক্ত সিঁদুরের স্রোত! বুক দুটো হাপরের মতন ওঠানামা করছে! নাঃ! এ লোকের সাথে আর একমূহুর্ত থাকা চলবে না! এ তার অনুপ নয়! কোন রাক্ষস ভর করেছে তাকে! নাহলে এভাবে তার বিশ্বাসের মন্দির টা ভেঙে চুরমার করে দিতে পারত?
- বাড়ি চল দীপা! আচমকা এক বহু পরিচিত কন্ঠস্বরে দীপার চিন্তাজাল ছিন্ন হয়ে যায়! তাকিয়ে দেখে অনুপ শান্ত ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে! বুকটা উথালপাতাল করে ওঠে দীপার! আজ ঘর ভর্তি লোকের সামনে এভাবে তার স্বামীর গায়ে হাত তুলতে হল??
আস্তে করে স্বামীর বাঁহাত নিজের কাঁধের উপর নিয়ে দীপা বলে উঠল
- চল! বাড়ি চল! আমি খুব একা হয়ে যাচ্ছি অনুপ! বাড়ি চল!
একটা পৈশাচিক হাসির ঝিলিক খেলে গেল অনুপের মুখে! যেটা দীপার নজরে এলোনা সম্ভবতঃ!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
বাড়ি আসার পরে অনুপের মধ্যে এক অদ্ভুত ভাবান্তর লক্ষ্য করে দীপা! খাওয়াদাওয়া বলতে গেলে ছেড়েই দিয়েছে আজকাল! কিছু জিজ্ঞাসা করলে শুধু মুখের দিকে তাকিয়ে হাসে! দীপার বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে! একটা অপরাধবোধ পেয়ে বসে তাকে! শত হোক স্বামী তো! তার গায়ে ওভাবে হাত তোলা ঠিক হয়নি এটা দীপা ফিল করে! এরই মধ্যে পুলিশ এসেছিল একবার ইনভেস্টিগেশন এর জন্য! যা যা জানতে চেয়েছিল সবই সুস্থ ভাবে জানিয়েছে অনুপ পুলিশ কে! দীপার ভয় হচ্ছিল অনুপ যেন পরিতোষ কে না জড়ায় এই ঘটনায়! মা মরা ছেলেটা তার জন্য এই ঘূর্ণাবর্তে জড়াক সেটা দীপা অন্তর থেকে চায় নি! কিন্তু দীপাকে অবাক করে দিয়ে একবারের জন্যও পুলিশের কাছে অনুপ পরিতোষ এর নাম পর্যন্ত করলনা! ঘাতক লরিটার মোটামুটি একটা বিবরণ নিয়ে পুলিশ যখন বাংলো ছেড়ে বেরোচ্ছে দীপা লক্ষ্য করল অনুপ একা একা হেসেই চলেছে! এ যেন। তার স্বাভাবিক হাসি নয়! কিছু একটা যেন ভর করেছে তার উপর! ভয়ে দীপার রক্ত হিম হয়ে যায়! এ কি ভবিতব্য আসতে চলেছে তার? তার অনুপ ভাল হয়ে উঠবে তো? বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে দীপার! পুলিশ যাবার আগে দীপাকে জানিয়ে গেল যে তার স্বামীর ছিন্ন হয়ে যাওয়া হাত খানি মেডিকেল কাস্টডি তে রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা আছে! তার স্বামীর অনুমতি পেলেই সেটিকে নষ্ট করে দেওয়া হবে! বেশিদিন রাখা চলবে না! পচন ধরে যেতে পারে! কথাটা শোনার পর দীপার মাথা ঘুরে গেল! কি করবে অনুপ নিজের ছিন্ন হয়ে যাওয়া হাত নিয়ে??! অনুমতি পত্রে সই দিল না কেন অনুপ? কখন যে অনুপ দীপার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সেটা সে খেয়াল করেনি!
চমক ভাঙল অনুপের গলার আওয়াজে
- স্নানের জল তৈরি কর দীপা! একটু বেরোবো! কাজ আছে!
দীপা চমকে উঠে বলে - হ্যাঁ...হ্যাঁ! যাচ্ছি! কিন্তু কোথায় যাবে তুমি এই অবস্থায়?
- বললাম তো কাজ আছে! একটু তিরিক্ষি মেজাজে বলে ওঠে অনুপ! আর তাছাড়া আমার এই অবস্থার জন্য তুমি করুণা কোরোনা! আমি আগের থেকে অনেক ভাল আছি! বলেই সে আর দাঁড়াল না! হনহন করে ঘরের দিকে হাঁটা লাগাল! পিছন থেকে অবাক দীপা দেখতে পেল অনুপের ডানদিকে পাঞ্জাবি র হাতার আড়ালে শূন্যস্থান আর নেই! কিছু দিয়ে ভরাট আছে যেন! ঠিক যেন মনে হয় ডান হাতটি এখুনি হাতা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসবে! বুকটা ধক করে উঠল দীপার! এ কি সব আবোলতাবোল ভাবছে সে! মাথা কি কাজ করছে না?
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
চমক ভাঙল অনুপের গলার আওয়াজে
- স্নানের জল তৈরি কর দীপা! একটু বেরোবো! কাজ আছে!
দীপা চমকে উঠে বলে - হ্যাঁ...হ্যাঁ! যাচ্ছি! কিন্তু কোথায় যাবে তুমি এই অবস্থায়?
- বললাম তো কাজ আছে! একটু তিরিক্ষি মেজাজে বলে ওঠে অনুপ! আর তাছাড়া আমার এই অবস্থার জন্য তুমি করুণা কোরোনা! আমি আগের থেকে অনেক ভাল আছি! বলেই সে আর দাঁড়াল না! হনহন করে ঘরের দিকে হাঁটা লাগাল! পিছন থেকে অবাক দীপা দেখতে পেল অনুপের ডানদিকে পাঞ্জাবি র হাতার আড়ালে শূন্যস্থান আর নেই! কিছু দিয়ে ভরাট আছে যেন! ঠিক যেন মনে হয় ডান হাতটি এখুনি হাতা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে আসবে! বুকটা ধক করে উঠল দীপার! এ কি সব আবোলতাবোল ভাবছে সে! মাথা কি কাজ করছে না?
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
দুপুরে স্নান খাওয়া সেরে অনুপ সেই যে বেরোল ফিরল তিন ঘন্টা পর! দীপা না খেয়ে অনুপের ফিরে আসার পথ চেয়ে অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিল ডাইনিং টেবলে মাথা রেখে! আচমকা গেট খোলার আওয়াজে সম্বিৎ পেয়ে দেখে অনুপ তার সামনে বসে একদৃষ্টে তার দিকে চেয়ে আছে! বুকটা ধড়াস করে উঠল দীপার! পরক্ষণেই সে সামলে নিল নিজেকে!
- চা খাবে? দাঁড়াও চা বানিয়ে আনছি!
- তুমি খেয়েছ দীপা? আচমকা এই প্রশ্নে চমকে উঠল সে! এড়াবার জন্য বলল
- ছাড়োনা ওসব কথা! চা বানিয়ে আনছি!
- দাঁড়াও! আজ চা আমি বানাচ্ছি! তুমি বসো এখানে!
- তুমি? কি ভাবে....???!! দীপার স্তম্ভিত হয়ে যাওয়া মুখে একটা অজানা ভয়ের রেশ খেলে যায়!
- কেন? আমি করতে পারি না? কি ভাব আমাকে? প্রতিবন্ধী আমি?
- না না সোনা আমি তা বলিনি একবারো! বলছি তোমার শরীর খারাপ! আজ আমি চা বানাই না!
- না! দৃঢ় স্বরে জানান দেয় সে! আমি বানাচ্ছি! তুমি বসো! বলে অনুপ রান্নাঘরের দিকে হাঁটা লাগায়! দীপার মাথায় হাজারটা প্রশ্ন কিলবিল করে ওঠে! কোথায় গেছিল তার স্বামী? এরকম অদ্ভুত ব্যাবহার করছে কেন?
দীপা আস্তে আস্তে টেবিল থেকে উঠে পড়ল! রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতেই শুনতে পেল বাসনকোসন নাড়াচাড়ার মৃদু শব্দ! অনুপ তার এক হাত দিয়ে এত নিপুণ ভাবে কাজ করছে কি ভাবে? ভাবতেই একটা ঠান্ডা স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নীচের দিকে নেমে গেল দীপার! রান্নাঘরের দরজার কাছে উঁকি মেরে সে যা দেখল থ হয়ে গেল একদম! অনুপ তার ডান আস্তিন সমেত শূন্যে কেটলি ধরে চা ঢালছে কাপে! ডান হাতটা দেখতে পাচ্ছে না দীপা! নিমেষে দীপা র চারপাশে সমস্ত পৃথিবী দুলে উঠল! অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যাবার আগের মূহুর্তে দেখতে পেল অনুপ তাকে ধরবার জন্য ছুটে আসছে! আর....আর....শূন্য আস্তিন সমেত ডানদিকটা সামনের দিকে এগিয়ে আসছে দীপার পতনশীল দেহ টিকে ধরবার জন্য! তারপর আর কিছু মনে নেই দীপার!!
দুই ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে দীপা দেখল সে তার নিজের খাটের উপরেই শুয়ে আছে! মনে পড়ল সে রান্নাঘর এর সামনে অজ্ঞান হয়ে গেছিল! কিন্তু এই অবস্থায় তাকে কে নিয়ে এল শোবার ঘরে? একমাত্র অনুপ ছাড়া তো কেউ নেই! একা অনুপের পক্ষে এক হাত দিয়ে দীপার শরীর টাকে টেনে নিয়ে আসা অসম্ভব! তাহলে কি ভাবে এল সে? তারপরে রান্নাঘরে দেখা সেই অদ্ভুত দৃশ্যটার কথা মনে পড়তেই তার সারা শরীর শিরশিরিয়ে উঠল! তবে...তবে কি?
- এখন কেমন বোধ করছ?
- ভ...ভ...ভালো! দীপা তোতলাতে থাকে!
- কিছু কি দেখেছিলে নাকি রান্নাঘরে?
অনুপ ইস্পাত দৃষ্টিতে দীপাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে!
- ক..কক...কই ন..ন্না..তো! দীপার মনে হল দম টা বন্ধ হয়ে আসছে আস্তে আস্তে!
আস্তে আস্তে নৈঃশব্দ্য গোটা বাংলোবাড়িটাকে গ্রাস করছে! অনেকক্ষণ পর নৈঃশব্দ্য ভাঙল অনুপ!
- দীপা তুমি বরং বিকেলে কোথাও ঘুরে এসো! ভাল লাগবে! পরিতোষকে বলে দিচ্ছি ও এসে তোমাকে ঘোরাতে নিয়ে যাবে!
দীপা নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিল না! এ কি শুনছে সে! যে মানুষটা পরিতোষ কে দেখতেই পারত না সেই এখন উলটো সুরে কথা বলছে!
- একি বলছ তুমি? কি বলছ তুমি জান?
- আমি সব বুঝেই বলছি! তুমি একটু ঘুরে এলে ভাল লাগবে! একা যাবে কেন? পরিতোষ কেও আসতে বলে দিয়েছি!
- আমার খুব ভয় করছে অনুপ! তুমি কিছু করে না বস আবার!
- আরে দূর পাগলি আমি আবার কি করব? নাও তৈরি হয়ে নাও পরিতোষ একটু পরেই আসছে তোমাকে নিতে!
দীপা খানিকখন থম মেরে গেল! এই অনুপ কে সে চেনেনা! কি করতে চাইছে সে তাদের দুজনের সাথে? এক অজানা আতংক ধীরেধীরে গ্রাস করতে লাগল দীপাকে! পরিতোষ যথাসময়ে এসে বাইকে নিয়ে গেল দীপাকে। পিছনে পড়ে রইল একা অনুপ! বাইক টা চোখের আড়ালে মিলিয়ে যেতেই একটা পৈশাচিক হাসি হেসে উঠল অনুপ! সাথে তার ডান দিকের শূন্য আস্তিন টাও নড়ে উঠল পৈশাচিক আনন্দে!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
- চা খাবে? দাঁড়াও চা বানিয়ে আনছি!
- তুমি খেয়েছ দীপা? আচমকা এই প্রশ্নে চমকে উঠল সে! এড়াবার জন্য বলল
- ছাড়োনা ওসব কথা! চা বানিয়ে আনছি!
- দাঁড়াও! আজ চা আমি বানাচ্ছি! তুমি বসো এখানে!
- তুমি? কি ভাবে....???!! দীপার স্তম্ভিত হয়ে যাওয়া মুখে একটা অজানা ভয়ের রেশ খেলে যায়!
- কেন? আমি করতে পারি না? কি ভাব আমাকে? প্রতিবন্ধী আমি?
- না না সোনা আমি তা বলিনি একবারো! বলছি তোমার শরীর খারাপ! আজ আমি চা বানাই না!
- না! দৃঢ় স্বরে জানান দেয় সে! আমি বানাচ্ছি! তুমি বসো! বলে অনুপ রান্নাঘরের দিকে হাঁটা লাগায়! দীপার মাথায় হাজারটা প্রশ্ন কিলবিল করে ওঠে! কোথায় গেছিল তার স্বামী? এরকম অদ্ভুত ব্যাবহার করছে কেন?
দীপা আস্তে আস্তে টেবিল থেকে উঠে পড়ল! রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতেই শুনতে পেল বাসনকোসন নাড়াচাড়ার মৃদু শব্দ! অনুপ তার এক হাত দিয়ে এত নিপুণ ভাবে কাজ করছে কি ভাবে? ভাবতেই একটা ঠান্ডা স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নীচের দিকে নেমে গেল দীপার! রান্নাঘরের দরজার কাছে উঁকি মেরে সে যা দেখল থ হয়ে গেল একদম! অনুপ তার ডান আস্তিন সমেত শূন্যে কেটলি ধরে চা ঢালছে কাপে! ডান হাতটা দেখতে পাচ্ছে না দীপা! নিমেষে দীপা র চারপাশে সমস্ত পৃথিবী দুলে উঠল! অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যাবার আগের মূহুর্তে দেখতে পেল অনুপ তাকে ধরবার জন্য ছুটে আসছে! আর....আর....শূন্য আস্তিন সমেত ডানদিকটা সামনের দিকে এগিয়ে আসছে দীপার পতনশীল দেহ টিকে ধরবার জন্য! তারপর আর কিছু মনে নেই দীপার!!
দুই ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরে দীপা দেখল সে তার নিজের খাটের উপরেই শুয়ে আছে! মনে পড়ল সে রান্নাঘর এর সামনে অজ্ঞান হয়ে গেছিল! কিন্তু এই অবস্থায় তাকে কে নিয়ে এল শোবার ঘরে? একমাত্র অনুপ ছাড়া তো কেউ নেই! একা অনুপের পক্ষে এক হাত দিয়ে দীপার শরীর টাকে টেনে নিয়ে আসা অসম্ভব! তাহলে কি ভাবে এল সে? তারপরে রান্নাঘরে দেখা সেই অদ্ভুত দৃশ্যটার কথা মনে পড়তেই তার সারা শরীর শিরশিরিয়ে উঠল! তবে...তবে কি?
- এখন কেমন বোধ করছ?
- ভ...ভ...ভালো! দীপা তোতলাতে থাকে!
- কিছু কি দেখেছিলে নাকি রান্নাঘরে?
অনুপ ইস্পাত দৃষ্টিতে দীপাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে!
- ক..কক...কই ন..ন্না..তো! দীপার মনে হল দম টা বন্ধ হয়ে আসছে আস্তে আস্তে!
আস্তে আস্তে নৈঃশব্দ্য গোটা বাংলোবাড়িটাকে গ্রাস করছে! অনেকক্ষণ পর নৈঃশব্দ্য ভাঙল অনুপ!
- দীপা তুমি বরং বিকেলে কোথাও ঘুরে এসো! ভাল লাগবে! পরিতোষকে বলে দিচ্ছি ও এসে তোমাকে ঘোরাতে নিয়ে যাবে!
দীপা নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিল না! এ কি শুনছে সে! যে মানুষটা পরিতোষ কে দেখতেই পারত না সেই এখন উলটো সুরে কথা বলছে!
- একি বলছ তুমি? কি বলছ তুমি জান?
- আমি সব বুঝেই বলছি! তুমি একটু ঘুরে এলে ভাল লাগবে! একা যাবে কেন? পরিতোষ কেও আসতে বলে দিয়েছি!
- আমার খুব ভয় করছে অনুপ! তুমি কিছু করে না বস আবার!
- আরে দূর পাগলি আমি আবার কি করব? নাও তৈরি হয়ে নাও পরিতোষ একটু পরেই আসছে তোমাকে নিতে!
দীপা খানিকখন থম মেরে গেল! এই অনুপ কে সে চেনেনা! কি করতে চাইছে সে তাদের দুজনের সাথে? এক অজানা আতংক ধীরেধীরে গ্রাস করতে লাগল দীপাকে! পরিতোষ যথাসময়ে এসে বাইকে নিয়ে গেল দীপাকে। পিছনে পড়ে রইল একা অনুপ! বাইক টা চোখের আড়ালে মিলিয়ে যেতেই একটা পৈশাচিক হাসি হেসে উঠল অনুপ! সাথে তার ডান দিকের শূন্য আস্তিন টাও নড়ে উঠল পৈশাচিক আনন্দে!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
বাইক তখন ধূলো উড়িয়ে সবেগে ছুটছে। গন্তব্য থানা! অনুপের কাটা হাতটা একবার নিজের চোখে দেখবে দীপা!সে যা দেখেছে সে তো কাউকে বললে কেউ বিশ্বাস ই করতে চাইবে না! এমনকি পরিতোষ ও নয়! একবার থানায় গিয়ে সে চক্ষু কর্ণের বিবাদ ভঞ্জন করে আসবে! থানায় পৌছতেই সে এক দৌড়ে থানার ভিতরে ঢুকে গেল! ইন্সপেক্টর এর সাথে কথা বলে এটুকু জানা গেল ঘাতক লড়িটার খোঁজ তার এখনো পায়নি! তল্লাশি চালাচ্ছে! তবে তাদের ধারণা লড়িটা এ রাজ্যের নয়! কাটা হাতখানি দেখার জন্য পীড়াপীড়ি করতেই ইন্সপেক্টর ইতস্তত করতে লাগল! একজন মহিলার পক্ষে এই ভয়ংকর দৃশ্য কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাই বোধহয় ভাবছিলেন তিনি! তবুও দীপার জেদে তিনি ভিতরের একটা ঘরে দীপাকে নিয়ে! একটা টিমটিম করে লাইট জ্বলছে!রাসায়নিক এর তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে দীপা কয়েক পা পিছিয়ে আসল!
একটা তাকের উপর বড় কাঁচের জারে ধূসর রাসায়নিক এর মধ্যে একটা কাটা হাত ভাসছে বীভৎস ভাবে! কাটা অংশ থেকে কয়েকটি শিরা উপশিরা মাকড়সার জালের মত হাতটিকে ঘিরে ধরেছে! মাঝের আঙুল টা ভাল করে লক্ষ্য করল দীপা! হ্যা ওই তো! দীপার দেওয়া সোনার আঙটিখানি মৃদু আলোয় চকচক করছে! বিয়েটে আঙটি টি অনামিকায় বড় হওয়ায় মধ্যমায় পড়িয়ে দিয়েছিল দীপা! সেই সুখের দিনের কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে দীপার চোখ জলে ভরে গেছে তা সে খেয়ালই করেনি!
- ম্যাডাম চলুন! ইন্সপেক্টর তাড়া লাগায়! সম্বিৎ ফেরে দীপার! বেরোবার আগে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়! আবার পিছন ফিরে হাতটা ভাল করে নিরীক্ষণ করতে থাকে সে! চোখে পড়ে কয়েকটি সাদা পোকা হাতটি গা বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছে! ইন্সপেক্টর দীপার মুখের অবস্থা দেখে চাপা গলায় বলে উঠল- ম্যাগট ম্যাম! পচন ধরছে! চলুন যাই! বেশিক্ষন থাকলে আপনার শরীর খারাপ লাগতে পারে! দীপা কিছু না বলে চুপচাপ বেরিয়ে আসে থানা থেকে! দেখে পরিতোষ বাইক টাকে স্ট্যান্ড করে একটা গাছের তলায় চুপ করে বসে কি যেন ভাবছে! দীপাকে দেখে সে উঠে এগিয়ে গেল!
- বৌদি কি হল থানায়?
দীপা আনুপূর্বিক সমস্ত ঘটনাই খুলে বলল পরিতোষ কে!
- বৌদি আমার মনে হচ্ছে অনুপদার মাথায় সমস্যা হচ্ছে! একটা সই দিতে পারলনা? বলে কিরকম যেন থম মেরে গেল! তারপর অনেক আস্তে বলল
- সই না দিত অন্তত টিপসই টাতো দিতে পারত! হাতটা পচিয়ে কি লাভ কে জানে?
দীপার বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল! তারপর বলল
- ভাই আমাকে বাড়ি পৌঁছে দাও! মনটা খুব কু ডাকছে! অনু কি করছে এতক্ষণ কে জানে? তুমি আজকের রাতটা একটু সাবধানে থেকো!
- একথা কেন বলছ বৌদি? কি হয়েছে? পরিতোষ কিছু বুঝতে পারে না দীপার কথা!
- যেটা বললাম মাথায় থাকে যেন! দীপা একটা চাপা ধমক দিল তাকে!
সন্ধের অন্ধকার ঘনাবার আগেই দীপা বাংলোয় ফিরে এল! দেখল অনুপ ছাদে একলা অস্থির ভাবে পায়চারি করছে! কপালে চিন্তার ভাঁজ! বুকটা ধক করে উঠল দীপার!
- কি হল? ঘোরা হয়ে গেল? অনুপের জিজ্ঞাসায় ঘোর কাটে দীপার!
- তোমার জন্য মন কেমন করছিল! তাই চলে এলাম!
এরপর যা হল তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলনা সে! দীপার জবাব শুনে অনুপ পৈশাচিক হাসি হাসতে শুরু করল ছাঁদ কাঁপিয়ে! দীপার অস্বস্তি বোধ হতে লাগল! জিজ্ঞাসা করল
- কি গো! ওভাবে হাসছ কেন?
- আমাকে এত ভালবাস তুমি? হাত কাটার পরেও? বলে আবার হাসতে লাগল! নির্জন চত্বর খানি সেই হাসির আওয়াজে খান খান হয়ে যেতে লাগল!
- তুমি আমাকে এখনো অবিশ্বাস কর তাই না? দীপা যেন একটু আহত হল!
- আরে না না! আসলে মজা করছিলাম!
ততক্ষণে অনুপ নিজেকে অনেক টা সামলে নিয়েছে! জিজ্ঞাসা করল
- পরি বাড়ি চলে গেছে?
- হ্যা কেন?
- কিছু না এমনি জিজ্ঞাসা করলাম!
অনুপের ঠোঁটে আবার একটা ইস্পাতকঠিন হাসির একটা আভাস ফুটে উঠল! সেটা দীপার চোখ এড়াল না! বুকটা ছমছম করে উঠল দীপার! অনুপের সাথে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে সে স্পষ্ট অনুভব করল অনুপের পাঞ্জাবি র ডান দিকের আস্তিন টা ফাঁকা নয়! বরং ভিতরে কিছু একটা প্রাণবন্ত নড়া চড়া চোখে পড়ল! অনুপ সেটা বুঝতে পেরে একটু কাষ্ঠ হাসি হাসল দীপার দিকে তাকিয়ে!
একটা তাকের উপর বড় কাঁচের জারে ধূসর রাসায়নিক এর মধ্যে একটা কাটা হাত ভাসছে বীভৎস ভাবে! কাটা অংশ থেকে কয়েকটি শিরা উপশিরা মাকড়সার জালের মত হাতটিকে ঘিরে ধরেছে! মাঝের আঙুল টা ভাল করে লক্ষ্য করল দীপা! হ্যা ওই তো! দীপার দেওয়া সোনার আঙটিখানি মৃদু আলোয় চকচক করছে! বিয়েটে আঙটি টি অনামিকায় বড় হওয়ায় মধ্যমায় পড়িয়ে দিয়েছিল দীপা! সেই সুখের দিনের কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে দীপার চোখ জলে ভরে গেছে তা সে খেয়ালই করেনি!
- ম্যাডাম চলুন! ইন্সপেক্টর তাড়া লাগায়! সম্বিৎ ফেরে দীপার! বেরোবার আগে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়! আবার পিছন ফিরে হাতটা ভাল করে নিরীক্ষণ করতে থাকে সে! চোখে পড়ে কয়েকটি সাদা পোকা হাতটি গা বেয়ে ওঠার চেষ্টা করছে! ইন্সপেক্টর দীপার মুখের অবস্থা দেখে চাপা গলায় বলে উঠল- ম্যাগট ম্যাম! পচন ধরছে! চলুন যাই! বেশিক্ষন থাকলে আপনার শরীর খারাপ লাগতে পারে! দীপা কিছু না বলে চুপচাপ বেরিয়ে আসে থানা থেকে! দেখে পরিতোষ বাইক টাকে স্ট্যান্ড করে একটা গাছের তলায় চুপ করে বসে কি যেন ভাবছে! দীপাকে দেখে সে উঠে এগিয়ে গেল!
- বৌদি কি হল থানায়?
দীপা আনুপূর্বিক সমস্ত ঘটনাই খুলে বলল পরিতোষ কে!
- বৌদি আমার মনে হচ্ছে অনুপদার মাথায় সমস্যা হচ্ছে! একটা সই দিতে পারলনা? বলে কিরকম যেন থম মেরে গেল! তারপর অনেক আস্তে বলল
- সই না দিত অন্তত টিপসই টাতো দিতে পারত! হাতটা পচিয়ে কি লাভ কে জানে?
দীপার বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল! তারপর বলল
- ভাই আমাকে বাড়ি পৌঁছে দাও! মনটা খুব কু ডাকছে! অনু কি করছে এতক্ষণ কে জানে? তুমি আজকের রাতটা একটু সাবধানে থেকো!
- একথা কেন বলছ বৌদি? কি হয়েছে? পরিতোষ কিছু বুঝতে পারে না দীপার কথা!
- যেটা বললাম মাথায় থাকে যেন! দীপা একটা চাপা ধমক দিল তাকে!
সন্ধের অন্ধকার ঘনাবার আগেই দীপা বাংলোয় ফিরে এল! দেখল অনুপ ছাদে একলা অস্থির ভাবে পায়চারি করছে! কপালে চিন্তার ভাঁজ! বুকটা ধক করে উঠল দীপার!
- কি হল? ঘোরা হয়ে গেল? অনুপের জিজ্ঞাসায় ঘোর কাটে দীপার!
- তোমার জন্য মন কেমন করছিল! তাই চলে এলাম!
এরপর যা হল তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলনা সে! দীপার জবাব শুনে অনুপ পৈশাচিক হাসি হাসতে শুরু করল ছাঁদ কাঁপিয়ে! দীপার অস্বস্তি বোধ হতে লাগল! জিজ্ঞাসা করল
- কি গো! ওভাবে হাসছ কেন?
- আমাকে এত ভালবাস তুমি? হাত কাটার পরেও? বলে আবার হাসতে লাগল! নির্জন চত্বর খানি সেই হাসির আওয়াজে খান খান হয়ে যেতে লাগল!
- তুমি আমাকে এখনো অবিশ্বাস কর তাই না? দীপা যেন একটু আহত হল!
- আরে না না! আসলে মজা করছিলাম!
ততক্ষণে অনুপ নিজেকে অনেক টা সামলে নিয়েছে! জিজ্ঞাসা করল
- পরি বাড়ি চলে গেছে?
- হ্যা কেন?
- কিছু না এমনি জিজ্ঞাসা করলাম!
অনুপের ঠোঁটে আবার একটা ইস্পাতকঠিন হাসির একটা আভাস ফুটে উঠল! সেটা দীপার চোখ এড়াল না! বুকটা ছমছম করে উঠল দীপার! অনুপের সাথে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে সে স্পষ্ট অনুভব করল অনুপের পাঞ্জাবি র ডান দিকের আস্তিন টা ফাঁকা নয়! বরং ভিতরে কিছু একটা প্রাণবন্ত নড়া চড়া চোখে পড়ল! অনুপ সেটা বুঝতে পেরে একটু কাষ্ঠ হাসি হাসল দীপার দিকে তাকিয়ে!
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠
রাত তখন অনেক গভীর! নির্জন বাংলো বাড়িটা গভীর নৈঃশব্দ্যর প্রহেলিকা জাল বুনে চলেছে আপন মনে! দীপা বিছানায় গভীর ঘুমে মগ্ন! ঠোঁট দুটো অল্প ফাঁক করা! আচমকা মোবাইলের রিংটোন এর আওয়াজে ধড়মড় করে উঠে বসে বিছানার উপর! এত রাতে আবার কে ফোন করল? স্ক্রিনে থানার নাম্বার দেখে বুকটা ধড়াস করে উঠল! পাশে তাকিয়ে দেখে অনুপ বিছানায় নেই! কল টা রিসিভ করেই সেই অপ্রত্যাশিত খবরটা শুনল দীপা! পরিতোষ মারা গিয়েছে! পুলিশ সাস্পেকট করছে এটা মার্ডার! কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক! মৃতের গলায় পাঁচ আঙুলের দাগ স্পষ্ট!..... আর মৃতের বিছানা জুড়ে থিকথিক করছে সাদা ম্যাগট!!! দীপা ভয়ার্ত কন্ঠে ডাক ছাড়ল
- অনুপ! অনুপ!
আর ঠিক সে সময়েই ছাদ থেকে একটা বিকট পৈশাচিক হাসির আওয়াজ ভেসে এল! এ আওয়াজ দীপার খুব চেনা! সিঁড়ি বেয়ে আস্তে আস্তে সে উপরের দিকে উঠতে লাগল! হাসির আওয়াজ ও ক্রমে প্রকট হয়ে উঠতে লাগল দীপার কানে!.........এক পা এক পা......দীপা এগোতে লাগল ছাদের দরজার দিকে!
অনুপের কাছে যেতেই হবে তাকে......সমস্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে তার একটাই অস্ত্র!..........
ভালোবাসা.........তার একমাত্র বিশ্বাস!!
© অরিন্দম নন্দী, বারাসাত
- অনুপ! অনুপ!
আর ঠিক সে সময়েই ছাদ থেকে একটা বিকট পৈশাচিক হাসির আওয়াজ ভেসে এল! এ আওয়াজ দীপার খুব চেনা! সিঁড়ি বেয়ে আস্তে আস্তে সে উপরের দিকে উঠতে লাগল! হাসির আওয়াজ ও ক্রমে প্রকট হয়ে উঠতে লাগল দীপার কানে!.........এক পা এক পা......দীপা এগোতে লাগল ছাদের দরজার দিকে!
অনুপের কাছে যেতেই হবে তাকে......সমস্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে তার একটাই অস্ত্র!..........
ভালোবাসা.........তার একমাত্র বিশ্বাস!!
© অরিন্দম নন্দী, বারাসাত
No comments:
Post a Comment